চীন-রাশিয়ার কড়া বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতাকে আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী দাবি, নতুন বিশ্বব্যবস্থার ইঙ্গিত।
টুইট ডেস্ক: বিশ্ব রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান মেরুকরণের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে চীন ও রাশিয়া। দুই দেশের শীর্ষ নেতা শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিনের যৌথ বিবৃতিতে বিভিন্ন দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ, শাসন পরিবর্তনের প্রচেষ্টা এবং সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি প্রভাব বিস্তারের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ না থাকলেও বিশ্লেষকদের মতে, এতে মূলত ইরান ও ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, অন্য দেশের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ সামরিক হামলা’, আলোচনার আড়ালে সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ, রাষ্ট্রনেতাদের হত্যাকাণ্ড এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির মতো কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
শি ও পুতিনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ড জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতিমালাকে গুরুতরভাবে লঙ্ঘন করছে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বৈশ্বিক ব্যবস্থার ভিত্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে বৈশ্বিক কূটনৈতিক ভারসাম্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে চীন ও রাশিয়া নিজেদের বিকল্প আন্তর্জাতিক শক্তিকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার কৌশল আরও জোরদার করছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেইজিং ও মস্কোর ঘনিষ্ঠ সমন্বয় সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।
ভূরাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পশ্চিমা প্রভাবনির্ভর বিশ্বব্যবস্থার বিপরীতে ‘বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্ব’ গঠনের যে ধারণা চীন ও রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে তুলে আসছে, এই যৌথ বিবৃতি সেই কৌশলগত অবস্থানকেই আরও স্পষ্ট করেছে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকাকে কেন্দ্র করে মস্কো ও
বেইজিং এখন প্রকাশ্য কূটনৈতিক পাল্টা অবস্থানে যাচ্ছে বলেও মনে করা হচ্ছে।






