জনসংখ্যা কমার শঙ্কায় নতুন ভাবনা ভারতে

১৪০ কোটির দেশেও বেশি সন্তান নেওয়ার আহ্বান।
ইন্ডিয়া বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ। বর্তমানে দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ১৪২ কোটি। দীর্ঘদিন ধরে পরিবার পরিকল্পনা ও ছোট পরিবার গঠনের প্রচারণা চালানো হলেও এখন পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো বড় পরিবার গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
তাদের দাবি, দেশে জন্মহার ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী সংকুচিত হতে পারে এবং অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হতে পারে। জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দশক ভারতের জনসংখ্যা বাড়লেও পরে তা স্থিতিশীলতার দিকে যাবে।
ভারতের মোট প্রজনন হার বা টিএফআর ১৯৯২-৯৩ সালে ছিল ৩ দশমিক ৪। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২১ সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২-এ। অথচ জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে অন্তত ২ দশমিক ১ প্রজনন হার প্রয়োজন বলে মনে করা হয়। নারীদের শিক্ষা বৃদ্ধি, নগরায়ণ ও জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রসারের কারণে এই হার কমেছে।
অন্ধ্র প্রদেশে নতুন প্রণোদনা
অন্ধ প্রদেশ সরকার ইতোমধ্যে বেশি সন্তান নেওয়াকে উৎসাহিত করতে নতুন আর্থিক প্রণোদনার পরিকল্পনা করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী
তৃতীয় সন্তান জন্মে পরিবার পাবে ৩০ হাজার রুপি
চতুর্থ সন্তানের জন্য দেওয়া হবে ৪০ হাজার রুপি
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী N. Chandrababu Naidu বলেছেন, আগে পরিবার পরিকল্পনায় জোর দেওয়া হলেও এখন বিশ্ব বাস্তবতা বদলেছে। অনেক দেশে জন্মহার কমে যাওয়ায় বয়স্ক জনগোষ্ঠী বেড়েছে এবং অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে।
সিকিমেও উৎসাহ
সিকিম সরকারও পরিবার বৃদ্ধিতে উৎসাহ দিচ্ছে। সেখানে
এক বছরের মাতৃত্বকালীন ছুটি
এক মাসের পিতৃত্বকালীন ছুটি
আইভিএফ চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা
দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আরএসএসের অবস্থান
Rashtriya Swayamsevak Sangh বা আরএসএসও বড় পরিবারের পক্ষে মত দিয়েছে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক Dattatreya Hosabale বলেন, ভারতের প্রজনন হার কমতে থাকলে ভবিষ্যতে জনসংখ্যাগত ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে বাড়ছে যুব বেকারত্ব
তবে ভারতের শ্রমবাজারের বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী—
২০২৫ সালে সামগ্রিক বেকারত্ব হার ছিল ৩ দশমিক ১ শতাংশ
১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে বেকারত্ব ৯ দশমিক ৯ শতাংশ
শহরে যুব বেকারত্ব ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ
গ্রামে এ হার ৮ দশমিক ৩ শতাংশ
বিশ্লেষকদের মতে, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার চ্যালেঞ্জ সমাধান ছাড়া শুধু জনসংখ্যা বৃদ্ধির আহ্বান ভবিষ্যতে নতুন চাপও তৈরি করতে পারে।
সূত্র:






