সুন্দর আগামী’ হারানোর বেদনা

কারিনা কায়সারের মৃত্যুতে আবেগঘন স্মৃতিচারণ তারিক আনাম খানের।
টুইট প্রতিবেদক: কনটেন্ট নির্মাতা ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার–এর অকাল মৃত্যুতে দেশের বিনোদন অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক। সহকর্মী, নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও ভক্তরা সামাজিক মাধ্যমে তাকে স্মরণ করছেন নানা আবেগঘন কথায়। সেই শোকের মিছিলে যুক্ত হয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা তারিক আনাম খানও।
নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আমাদের সুন্দর একটি আগামী হারিয়ে গেল। একসাথে থেকে আলাদা হয়ে গেল।” তিনি স্মরণ করেন, পরিচালক রেজাউর রহমান পরিচালিত একসাথে আলাদা সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা। ছবিটির গল্প ও চিত্রনাট্য যৌথভাবে লিখেছিলেন কারিনা কায়সার ও রেজাউর রহমান।
তারিক আনাম খান বলেন, সিনেমাটির গল্প ছিল আধুনিক সম্পর্কের এক ভিন্ন ব্যাখ্যা,দুই মানুষ কাছাকাছি থেকে কষ্ট পাওয়ার চেয়ে আলাদা হয়ে বন্ধুত্ব বজায় রাখতে পারে কি না, সেই ভাবনার এক কমেডিধর্মী উপস্থাপন।
কারিনার কাজের প্রতি একাগ্রতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষায়, কমেডির সূক্ষ্মতা, সংলাপ ও পরিস্থিতি নির্মাণ সম্পর্কে কারিনার ছিল স্পষ্ট ধারণা। নিজের কাজ নিয়ে তিনি ছিলেন অত্যন্ত নিবেদিত। শুটিং চলাকালে প্রায়ই মনিটরের সামনে গভীর মনোযোগে দাঁড়িয়ে থাকতেন এবং টিমের সঙ্গে নীরবে আলোচনা করতেন।
নতুন একটি ধারাবাহিক পারিবারিক কমেডি নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও জানান তারিক আনাম খান। আক্ষেপ করে লেখেন, সেই কাজ আর শুরুই করা হলো না। একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে কারিনাকে ঘিরে বিতর্কিত আলোচনা না করার আহ্বানও জানান তিনি।
তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বিশেষভাবে স্বাস্থ্যসচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “জীবন সুন্দর, জীবন মূল্যবান।”
জটিল অসুস্থতায় মৃত্যু
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত হলেও পরে কারিনা কায়সারের শরীরে গুরুতর সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস ‘এ’ ও ‘ই’–জনিত জটিলতায় তার লিভার বিকল হতে শুরু করে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চেন্নাই নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচাতে পারেননি।
সামাজিক মাধ্যমে প্রাণবন্ত ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট নির্মাণের মাধ্যমে তরুণদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন কারিনা। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও নিজস্ব পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন তিনি। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ইন্টার্নশিপ ।






