মেডিকেল কলেজে বিতর্কিত ঘটনা: চার শিক্ষার্থীর সিট বাতিল, কারাদণ্ডের তথ্য সামনে

ছাত্রাবাসে অভিযোগের পর প্রশাসনিক ব্যবস্থা, তদন্তে নতুন তথ্যের দাবি

টুইট ডেস্ক: রাজধানীর সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ-এর ছাত্রাবাসে সমকামিতায় জড়িত থাকার অভিযোগে চার শিক্ষার্থীর আবাসিক সিট বাতিল ও পাঁচজনকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করার ঘটনা আলোচনায় এসেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে কলেজ শাখা ছাত্রদলের দুই পদধারী নেতাও রয়েছেন।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত চার শিক্ষার্থী হলেন আহসানুল ইসলাম চৌধুরী, মহিবুর রহমান নয়ন, রাব্বি হোসেন ওরফে আরিয়ান শাহ রাব্বি এবং শাহরিয়ার পলক। তাদের মধ্যে আরিয়ান শাহ রাব্বি ও মহিবুর রহমান নয়ন কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২২ এপ্রিল রাতে। অভিযোগ রয়েছে, কলেজের মসজিদসংলগ্ন একটি গলি থেকে একজন শিক্ষার্থীকে এক বহিরাগত ব্যক্তির সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে আরও কয়েকজনের নাম উঠে আসে বলে দাবি করা হয়। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্টদের কাফরুল থানা–য় হস্তান্তর করা হয়।

পরদিন জরুরি একাডেমিক কাউন্সিল সভায় অভিযুক্তদের আবাসিক সিট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় কলেজ প্রশাসন। তবে তাদের ছাত্রত্ব আপাতত বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

কলেজের একটি সূত্র দাবি করেছে, তদন্তে মোবাইল ফোন থেকে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে এবং কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগভিত্তিক গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অধ্যক্ষ ডা. মো. রাশিদুজ্জামান খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া ১৫ দিনের কারাদণ্ডের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক তদন্তও চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, যৌন অভিমুখিতা সংক্রান্ত অভিযোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। অভিযোগ, প্রশাসনিক বক্তব্য এবং যাচাইকৃত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে—তাই এমন ঘটনায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে নিরপেক্ষ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।