রূপপুরে ঐতিহাসিক অগ্রগতি, প্রথম ইউনিটে সম্পন্ন জ্বালানি লোডিং

বাণিজ্যিক উৎপাদনের পথে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

টুইট ডেস্ক: দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প–এর প্রথম ইউনিটে সফলভাবে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাণিজ্যিক উৎপাদনের আরও এক ধাপ কাছে পৌঁছেছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রসাটম মঙ্গলবার এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানায়, চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল শুরু হওয়া জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শেষে রিঅ্যাক্টর কোরে মোট ১৬৩টি ফ্রেশ ফুয়েল অ্যাসেম্বলি সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগে এটিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ধাপগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়।

প্রকল্প পরিচালক ও এটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেক্সি ডেইরি জানান, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরাপত্তা মানদণ্ড ও পরিচালনাগত বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করেই এই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পরবর্তী ধাপে রিঅ্যাক্টরের উপরের অংশ স্থাপন, ইন-কোর ইনস্ট্রুমেন্টেশন সিস্টেম সংযুক্তকরণ এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা পরীক্ষা চালানো হবে। এরপর ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরকে ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন স্তরে নিয়ে যাওয়া হবে।

ধাপে ধাপে বাড়বে উৎপাদন

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক উৎপাদন শুরু হওয়ার পর প্রতি মাসে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে উৎপাদন বাড়ানো হবে। পূর্ণ সক্ষমতায় ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে সময় লাগতে পারে প্রায় ৮ থেকে ১০ মাস।

এ বছরের শেষদিকে দ্বিতীয় ইউনিটেও জ্বালানি লোডিং শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ শতাংশের বেশি পূরণ করতে সক্ষম হবে।

পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত এই প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত প্রকল্পটিতে ব্যবহৃত হয়েছে অত্যাধুনিক ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তি।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে ‘পরমাণু ক্লাব’-এ যুক্ত হয়েছে।