রাজশাহীতে চুরির সন্দেহে যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতন

ভাইরাল ভিডিওয়ে উঠে এল মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র।

টুইট প্রতি‌বেদক: রাজশাহী মহানগরীর কাজলা এলাকায় চুরির অপবাদে এক যুবককে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মম নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

র‌বিবার (১০ মে ২০২৬) এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নির্যাতিত যুবকের নাম তুষার (৩৫)। তিনি মতিহার থানার কাজলা এলাকার নাজিরের ছেলে। স্থানীয় সূত্র জানায়, তিনি এলাকায় চিহ্নিত চোর হিসেবে পরিচিত। তবে কোনো অভিযোগ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা গভীর উদ্বেগের।

প্রকাশ্যে লাঠিপেটা

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, চুরির সন্দেহে তুষারকে আটক করে কয়েকজন ব্যক্তি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। পরে প্রকাশ্যে লাঠি দিয়ে মারধর, শারীরিক নির্যাতন ও চরম অপমান করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কেউ মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে তা অনলাইনে ছড়িয়ে দেন।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, যুবককে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে কয়েকজন ব্যক্তি নির্দয়ভাবে মারধর করছেন। এ দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বেড়েছে। আইন নিজের হাতে তোলা মানবাধিকার লঙ্ঘন।

সচেতন নাগরিকরা বলছেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সোপর্দ করাই সঠিক পথ। গাছে বেঁধে নির্যাতন করা সম্পূর্ণ অমানবিক ও আইনবিরোধী। এ ধরনের ঘটনা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং দণ্ডনীয় অপরাধ।

স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশের উচিত বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

এ ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং মবলিঞ্চের মতো ঘটনা রোধে প্রশাসনের সতর্কতা জরুরি।