বিজিএমইএ-জিআইজেড সমঝোতা

সবুজ ও টেকসই পোশাক শিল্পে নতুন অংশীদারত্ব।
টুইট প্রতিবেদক : বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পে রূপান্তরের লক্ষ্যে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এবং জিআইজেড–এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
রোববার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং জিআইজেডের ক্লাস্টার কোঅর্ডিনেটর থমাস রল্ফ–এর পক্ষে গুনডলফ ক্লেন সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
২০২৬ সালের মে থেকে ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে টেকসই উন্নয়ন, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সার্কুলার অর্থনীতি বাস্তবায়নে যৌথভাবে কাজ করবে দুই প্রতিষ্ঠান। এটি বিজিএমইএ ও জিআইজেডের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, এ অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে দায়িত্বশীল ও পরিবেশবান্ধব বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে।
অন্যদিকে জিআইজেড বাংলাদেশের পোশাক খাতের টেকসই রূপান্তরে কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ইইউ বাজারের নতুন শর্তে প্রস্তুতি
সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন বাণিজ্যিক শর্তাবলি,সাপ্লাই চেইন ডিউ ডিলিজেন্স, ট্রেসেবিলিটি, সার্কুলারিটি ও ডিকার্বোনাইজেশন বিষয়ে দেশের পোশাক কারখানাগুলোকে প্রস্তুত করা হবে।
পাশাপাশি রেসপন্সিবল বিজনেস হেল্পডেস্ককে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কারখানায় উন্নত রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত, পরিবেশ দূষণ হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মানদণ্ড বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এর ফলে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর কাছে আরও নির্ভরযোগ্য ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন’ শিল্পখাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
জ্বালানি দক্ষতা ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা
চুক্তির আওতায় কারখানায় নিয়মিত জ্বালানি নিরীক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল তৈরি এবং প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার পাশাপাশি কর্মীদের আধুনিক দক্ষতা উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পোশাক খাতের ঝুট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে।
নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রকৌশল ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে ‘শক্তি কন্যা’ নেটওয়ার্ককে আরও সক্রিয় করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ, এনামুল আজিজ চৌধুরী এবং জিআইজেড বাংলাদেশের স্টাইল-টু প্রকল্পের প্রধান মাইকেল ক্লোডেসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






