উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন গতি এনেছেন রাসিক

রিটনের নেতৃত্বে বদলাচ্ছে রাজশাহী। পরিচ্ছন্নতা, উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন গতি এনেছেন রাসিক প্রশাসক।

ব‌দিউল আলম লিংকন: দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই কর্মতৎপরতা, মাঠপর্যায়ের তদারকি ও নাগরিকমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে আলোচনায় উঠে এসেছেন প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন। তরুণ ও গতিশীল নেতৃত্বের কারণে রাজশাহী নগরজুড়ে ইতিবাচক সাড়া তৈরি হয়েছে।

গত ১৪ মার্চ রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন–এর প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নগর উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা, জলাবদ্ধতা নিরসন, সবুজায়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিকভাবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
বিশেষ করে দীর্ঘদিন অবহেলিত ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রমে তাঁর সরাসরি উপস্থিতি নগরবাসীর নজর কেড়েছে।

নগর ভবনের সামনে দড়িখরবোনা এলাকার বড় ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম পরিদর্শনের সময় স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে ওই ড্রেনের কাদামাটি অপসারণ করা হয়নি। প্রশাসকের এমন উদ্যোগকে তারা “নাগরিক স্বস্তির পদক্ষেপ” হিসেবে উল্লেখ করেন।

আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে রাসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগকে নিয়ে ১০ দিনব্যাপী বিশেষ কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন তিনি। নগরীর বিভিন্ন ড্রেন, নালা ও জলপ্রবাহ পথ থেকে ময়লা-আবর্জনা অপসারণের কাজ জোরদার করা হয়েছে, যাতে বর্ষায় জলাবদ্ধতা কমানো যায়।

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনেও সক্রিয় রয়েছেন রিটন। গোড়হাঙ্গা রেলক্রসিং উড়ালসেতু, শালবাগান কাঁচাবাজার, হারাগ্রাম রেলক্রসিং ও নওদাপাড়া বাজারসহ বিভিন্ন প্রকল্প সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন।

শুধু অবকাঠামো নয়, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ নিয়েও কাজ করছেন তিনি। নগরীতে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন, মশক নিয়ন্ত্রণ অভিযান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন এবং তিন-আর (হ্রাস, পুনঃব্যবহার ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ) কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রশাসক।

এছাড়া নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনে রাউন্ডঅ্যাবাউট, সড়ক বিভাজক ও পার্ক এলাকায় গাছ লাগানো এবং সবুজায়নের উদ্যোগও ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার উন্নয়ন কার্যক্রমও তদারকি করছেন তিনি।

সম্প্রতি রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন ও সম্পাদকদের সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন রিটন। তিনি বলেন, নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, জনগণ ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে উঠে আসা এই তরুণ প্রশাসককে ঘিরে এখন নগরবাসীর প্রত্যাশাও বাড়ছে। অনেকের মতে, মাঠমুখী নেতৃত্ব, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সরাসরি তদারকির কারণে রাসিক প্রশাসনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

নগরবাসীর আশা, পরিকল্পনাগুলোর ধারাবাহিক বাস্তবায়ন হলে রাজশাহী আরও পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত হবে।