আবারও ১০০ ডলার ছাড়াল তেলের দাম

 ট্রম্পের হুঁশিয়ারির পর বিশ্ববাজারে নতুন অস্থিরতা।

টুইট ডেস্ক: টানা দুইদিনের পতনের পর আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও বেড়ে ৯৬ ডলারে পৌঁছেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের কারণেই বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি প্রস্তাবিত চুক্তি মেনে নেয়, তাহলে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হতে পারে। তার এই বক্তব্য প্রকাশের পরপরই বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরে আসে।

এক পর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দামও প্রায় ১২ শতাংশ কমে ৮৯ ডলারে পৌঁছায়।

তবে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায় ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারির পর। তিনি বলেন, ইরান চুক্তি প্রত্যাখ্যান করলে আরও বড় ধরনের সামরিক হামলার মুখোমুখি হতে পারে। এরপরই জ্বালানি বাজারে ফের উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে এবং তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে গত ২৯ এপ্রিল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২২ ডলারে পৌঁছেছিল, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।