ডিসি সম্মেলন শুরু

নতুন সরকারের প্রথম প্রশাসনিক সমন্বয় সভায় ৪৯৮ প্রস্তাব, অগ্রাধিকার স্বাস্থ্য ও জনসেবা।
রাজধানীতে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন শুরু হয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই প্রথম ডিসি সম্মেলন। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। তিনি সচিবালয় থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রবেশ করেন।
এবারের সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের মোট ৪৯৮টি প্রস্তাব কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা খাতেই সর্বোচ্চ ৪৪টি প্রস্তাব এসেছে, যা সরকারের অগ্রাধিকার খাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানায়, আটজন বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলার ডিসিদের কাছ থেকে মোট ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব পাওয়া যায়। যাচাই-বাছাই শেষে গুরুত্বপূর্ণ ৪৯৮টি প্রস্তাব আলোচ্যসূচিতে স্থান পেয়েছে।
এসব প্রস্তাবে জনসেবা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যখাত উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, আইন সংস্কার ও জনদুর্ভোগ কমানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে ডিসিদের মতবিনিময়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। মোট ৩৪টি কার্য অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে, গাজীপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র পুনর্গঠন, রংপুরে এক হাজার শয্যার হাসপাতাল চালু, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে মিডওয়াইফ নিয়োগ।
এছাড়া শিক্ষা খাতে নতুন শিক্ষক নিয়োগ, দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা, কওমি মাদরাসার নীতিমালা প্রণয়ন, ভূমি অপরাধ আইন সংশোধন এবং প্রতিটি উপজেলায় প্রতিবন্ধী সেবা কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাবও এসেছে।
প্রথম দিনের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আইন মন্ত্রণালয়ের বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
দ্বিতীয় দিন অর্থ মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য বিভাগ, তৃতীয় দিন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও বিচার বিভাগ এবং শেষ দিনে স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নিয়ে আলোচনা হবে।
সম্মেলনের শেষদিনে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ও নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হবে। চার দিনের এই সম্মেলন শেষ হবে ৬ মে।






