শিল্পখাত পুনরুজ্জীবনে এক বছরে মিল হস্তান্তরের লক্ষ্য

বাজারে স্বচ্ছতা আনতে এআইভিত্তিক সাপ্লাই চেইন মনিটরিং, কাঁচা চামড়া সংরক্ষণেও বিশেষ উদ্যোগ।

টুইট ডেস্ক: দেশের শিল্পখাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার সময়োপযোগী ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, রুগ্ন ও বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর মাধ্যমে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের এক অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী জানান, বস্ত্র ও পাট খাতের প্রায় ৫০টি বন্ধ ও রুগ্ন মিল পর্যায়ক্রমে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে, উৎপাদন বাড়বে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

জেলা প্রশাসকদের প্রস্তাবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিভিন্ন জেলা থেকে শিল্প পুনরুজ্জীবন, নতুন শিল্পাঞ্চল স্থাপন, বন্ধ চিনিকল চালু এবং ডিস্টিলারি স্থাপনের মতো বাস্তবভিত্তিক প্রস্তাব এসেছে। সরকার এসব প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

বাজার ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত মূল্য ব্যবধান কমাতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, বিশেষ করে এআইভিত্তিক সাপ্লাই চেইন মনিটরিং চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

এর মাধ্যমে আমদানি, মজুদ, পাইকারি ও খুচরা,প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় আমদানি-নির্ভর পণ্যের জন্য ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। এতে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হলেও দেশের বাজারে পণ্যের ঘাটতি তৈরি হবে না এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখা সহজ হবে।

টিসিবির কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে একটি শক্তিশালী উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের কথাও তুলে ধরেন তিনি, যেখানে সরকারি-বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মসজিদ-মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ, সরকারিভাবে লবণ সরবরাহ, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং চামড়া পরিবহন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।

বাজার স্থিতিশীল রাখতে জেলা প্রশাসকদের আরও সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রশাসন ও নির্বাচিত সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে।