বন্ধ শিল্প সচল করতে তিনমেয়াদি ঋণ: ক্রেডিট গ্যারান্টি চায় ব্যাংকগুলো

বন্ধ কারখানা সচল: তিন স্তরে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত।
নিজস্ব প্রতিবেদক : বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা পুনরায় চালু করে কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি, তিন স্তরে অর্থায়নের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এ প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় সরকারের কাছে ক্রেডিট গ্যারান্টি দাবি করেছেন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
বিএনপি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুসারে প্রথম ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদনে ফিরবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের দ্বার উন্মুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিন স্তরের অর্থায়ন কৌশল
রোববার (৩ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কবির আহমেদের সভাপতিত্বে ২০টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবসা ও ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।
স্বল্পমেয়াদি অর্থায়ন: যেসব কারখানার গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক রয়েছে, শুধু ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের অভাবে উৎপাদন চালাতে পারছে না—তাদের জন্য।
মধ্যমেয়াদি অর্থায়ন: গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল বকেয়ার কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন, যন্ত্রপাতি নষ্ট এবং ক্রেতা সংকটে পড়া কারখানাগুলোর জন্য।
দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন: দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা, নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন প্রয়োজন এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য।
ব্যাংকগুলোর দাবি ও উদ্বেগ
ব্যাংক কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, অর্থায়ন বাস্তবায়নে ক্রেডিট গ্যারান্টি ছাড়া এগোতে চান না তাঁরা। তাঁদের দাবিগুলো হলো, ঋণ যদি আবার খেলাপি হয়, তার ক্ষতিপূরণে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টি। উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি জামানত নেওয়ার সুযোগ এবং ঋণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্যাংকের পক্ষ থেকে পরামর্শক নিয়োগ।
সভায় উপস্থিত ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, আওয়ামী লীগ আমলে প্রায় দুই ডজন ব্যাংকে লুটপাট ও অর্থ পাচারের কারণে বর্তমানে তাদের নিজস্ব অর্থায়ন সক্ষমতা অনেক কম। করোনাকালীন প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ এখনো পুরোপুরি আদায় না হওয়ায় নতুন ঝুঁকি নিতে তাঁরা অনিচ্ছুক।
কমিটি গঠন ও আইএমএফ শর্ত
বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ১৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে অর্থায়নের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমানও এ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নতুন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠনে নিরুৎসাহিত করছে। চলমান ঋণ কর্মসূচির শর্ত অনুসারে বিদ্যমান তহবিল ধীরে ধীরে কমিয়ে আনতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জুলাই আন্দোলনের সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া ভালো শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যেসব কারখানা জালিয়াতি, অর্থপাচার বা বড় অপরাধে জড়িত নয়, তাদের কম সুদে তহবিলসহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার চিন্তা চলছে।
এ উদ্যোগ সফল হলে দেশের শিল্প খাতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে এবং কর্মসংস্থানের লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদরা।






