লোভনীয় অ্যাপের ফাঁদে ব্যাংক খালি

কয়েক মিনিটেই উধাও লাখ টাকা; ম্যালওয়্যারে নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে হ্যাকাররা।

টুইট ডেস্ক: দেশে নতুন করে ভয়ংকর সাইবার প্রতারণার চক্র সক্রিয় হয়েছে। লোভনীয় অফারের প্রলোভনে ফ্রি অ্যাপ ডাউনলোড করতেই স্মার্টফোনের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন ব্যবহারকারীরা। এরপর কয়েক মিনিটের মধ্যেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে হ্যাকাররা।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)–এর সাইবার ইউনিট জানিয়েছে, গত এক মাসেই এমন অন্তত ৩০টি অভিযোগ পেয়েছে তারা। প্রতিদিনই নতুন নতুন ভুক্তভোগী যুক্ত হচ্ছেন এই তালিকায়।

ভুক্তভোগীদের একজন পিংকি জানান, একটি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘সব চ্যানেল দেখার’ লোভনীয় অফার পেয়ে একটি অ্যাপ ডাউনলোড করেন তিনি। অ্যাপটি ইনস্টল করার পরপরই ফোনের স্ক্রিন অন্ধকার হয়ে যায় এবং নিয়ন্ত্রণ চলে যায় অজানা হ্যাকারদের হাতে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার অ্যাকাউন্ট থেকে ধাপে ধাপে কয়েক লাখ টাকা ট্রান্সফার হয়ে যায়।

একই ধরনের ঘটনার শিকার হন সৌম্য কান্তি দাশ নামে এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী। তিনি বলেন, ব্যাংকিং অ্যাপে প্রবেশের চেষ্টা করতেই ফোনে ‘সিস্টেম হালনাগাদ হচ্ছে’ বার্তা দেখিয়ে স্ক্রিন অচল হয়ে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই ‘ওটিপি’ বার্তা ও অর্থ স্থানান্তরের নোটিফিকেশন আসে। ৫ থেকে ৭ মিনিটের মধ্যেই তার অ্যাকাউন্ট শূন্য হয়ে যায়।

ডিএমপির সাইবার ইউনিটের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সৈয়দ হারুন অর রশীদ জানান, হ্যাকাররা ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে ফোনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে। এরপর ব্যবহারকারীর মতো করেই ব্যাংক অ্যাপে ঢুকে অর্থ স্থানান্তর করছে। তদন্তে দেখা গেছে, এসব টাকা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ঘুরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যেগুলোর অনেকগুলোই প্রতারক চক্রের নিয়ন্ত্রণে। কিছু ক্ষেত্রে দেশের বাইরে থেকেও এই চক্র পরিচালিত হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, ভুয়া ও ক্ষতিকর অ্যাপের বিস্তার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। তাই শুধুমাত্র সরকারি অনুমোদিত অ্যাপ ভান্ডার যেমন গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকেই অ্যাপ ডাউনলোড করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিচিত লিংক বা অতিরিক্ত আকর্ষণীয় অফারে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ভুলবশত এমন অ্যাপ ইনস্টল হয়ে গেলে দ্রুত ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা ব্যবহারকারীদের অসচেতনতা যতদিন থাকবে, ততদিন এ ধরনের সাইবার অপরাধ বাড়তেই থাকবে। তাই প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতনতা এখন সময়ে