বনলতা সেন’ দিয়ে নতুন অধ্যায়ে নাবিলা, মানসম্পন্ন কাজেই আস্থা

বনলতা সেন’ নিয়ে উচ্ছ্বসিত নাবিলা, ভালো গল্প ও শক্তিশালী চরিত্রেই আস্থা

টুইট প্রতিবেদক: ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও উপস্থাপক মাসুমা রহমান নাবিলা মনে করেন, বছরে অনেক কাজ করার চেয়ে একটি মানসম্পন্ন কাজই একজন শিল্পীর পরিচয় বহন করে। সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র বনলতা সেন–এ অভিনয়ের পর দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় তিনি অভিভূত বলে জানিয়েছেন।

সমকালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাবিলা বলেন, ‘বনলতা সেন’ মুক্তির পর দর্শকের ভালোবাসা ও প্রশংসা তাঁকে নতুন অনুপ্রেরণা দিয়েছে। শুধু তাঁর অভিনয় নয়, ছবির নির্মাণশৈলী, সেট, পোশাক ও সামগ্রিক উপস্থাপনাও দর্শকদের আলোচনায় এসেছে, যা তাঁকে আনন্দিত করেছে।

চরিত্রের জন্য কঠিন প্রস্তুতি

নাবিলার ভাষ্য, এই ছবির চরিত্রের জন্য তাঁকে দীর্ঘ সময় প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। ওজন কমানো থেকে শুরু করে জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা, এমনকি অন্য কাজের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্তও নিতে হয়েছে। শুটিং চলাকালে শারীরিক ও মানসিক নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে।

তিনি বলেন, এটি তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম কঠিন কিন্তু তৃপ্তিদায়ক যাত্রা।

সংখ্যার চেয়ে মানে বিশ্বাস

নিজের কাজের দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নাবিলা বলেন, তিনি কখনোই শুধু পর্দায় উপস্থিত থাকার জন্য কাজ করেন না। যে গল্প বা চরিত্র তাঁকে নাড়া দেয় না, সে ধরনের কাজ গ্রহণে আগ্রহী নন।

তাঁর মতে, “বছরে দশটি কাজ করার চেয়ে একটি ভালো কাজ করতে পারলে আমি বেশি খুশি।” তিনি বিশ্বাস করেন, ‘বনলতা সেন’-এর চরিত্রটি দীর্ঘদিন দর্শকের মনে বেঁচে থাকবে।

‘আয়নাবাজি’ থেকে ‘বনলতা সেন’

ক্যারিয়ারের পথচলা মূল্যায়ন করতে গিয়ে নাবিলা বলেন, আয়নাবাজি তাঁকে নতুন পরিচিতি দিয়েছে, আর তুফান তাঁকে ভিন্নধারার দর্শকের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। অন্যদিকে ‘বনলতা সেন’ তাঁকে একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার সুযোগ দিয়েছে।

শাকিব খানের প্রশংসা

‘তুফান’ ছবিতে কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে নাবিলা বলেন, শাকিব খান তাঁকে সবচেয়ে বেশি চমকে দিয়েছেন। বাস্তব জীবনে শাকিব খান অত্যন্ত সহজ-সরল ও সহযোগিতাপরায়ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নাবিলার মতে, এত বড় তারকা হয়েও শাকিব সেটে সহশিল্পীদের স্বাচ্ছন্দ্য দেওয়ার চেষ্টা করেন, যা তাঁকে মুগ্ধ করেছে। ভবিষ্যতে উপযুক্ত গল্প ও চরিত্র পেলে আবারও একসঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

নারী চরিত্রের গুরুত্ব বাড়ছে

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নারী চরিত্রের অবস্থান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নাবিলা বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি হলেও এখনও অনেক গল্প নায়ককেন্দ্রিক। তবে দর্শকের রুচির পরিবর্তনের কারণে শক্তিশালী নারী চরিত্রভিত্তিক গল্পের চাহিদা বাড়ছে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী দিনে আরও বেশি নারীপ্রধান ও শক্তিশালী চরিত্রনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মিত হবে।

পরিবার ও কাজের ভারসাম্য

মা হওয়ার পর জীবনের অগ্রাধিকার বদলে গেছে বলে জানান নাবিলা। পরিবার ও পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই তিনি এগিয়ে যেতে চান। তাঁর ভাষায়, সময় ব্যবস্থাপনাই এই ভারসাম্যের মূল চাবিকাঠি।

নতুন কাজের অপেক্ষায়

বর্তমানে কয়েকটি নতুন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন নাবিলা। তবে সেগুলো নিয়ে এখনই বিস্তারিত বলতে রাজি নন। তিনি এমন কাজের অপেক্ষায় আছেন, যা তাঁকে একজন শিল্পী হিসেবে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করবে এবং দর্শকদের জন্য ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে।