যুদ্ধের ধাক্কায় কাঁপছে মার্কিন অর্থনীতি

তেলের দামে অস্থিরতা, ‘চাহিদা ধ্বংসে’ বদলে যাচ্ছে ভোক্তা আচরণ; দীর্ঘমেয়াদি মন্দার শঙ্কা।

টুইট ডেস্ক: ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি অভিঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে। জ্বালানি তেলের বাজারে তীব্র ধাক্কার ফলে অর্থনীতিতে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষজ্ঞরা সেটিকে ‘চাহিদা ধ্বংস’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন,যেখানে মূল্যবৃদ্ধির চাপে মানুষের ব্যয়ের অভ্যাস স্থায়ীভাবে বদলে যায়।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের সংকট ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রে স্পষ্ট,দ্রুত বাড়তে থাকা জ্বালানি ব্যয় সাধারণ মানুষের সঞ্চয় কমিয়ে দিচ্ছে এবং কর ফেরতের অর্থও খরচ হয়ে যাচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনে।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ, যাদের অতিরিক্ত ব্যয় সামাল দেওয়ার সক্ষমতা সীমিত।

অর্থনীতিবিদদের মতে, পরিস্থিতি একটি ধারাবাহিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি পরিবার ও ব্যবসার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে, কমে যাচ্ছে ভোক্তা আস্থা। ফলে বিলাসপণ্যে ব্যয় কমছে, বড় বিনিয়োগ স্থগিত হচ্ছে। ব্যবসায় মুনাফা হ্রাস পাওয়ায় ছাঁটাই বাড়ছে, আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে শুধু তেল নয়, সার ও শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে। এতে খাদ্যপণ্যের বাজারেও নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে খাদ্যের দামে এর পূর্ণ প্রভাব দৃশ্যমান হতে পারে।

তবে কিছুটা আশার কথাও রয়েছে। যুদ্ধবিরতি এবং তেলের দামের আংশিক স্থিতিশীলতা বড় ধরনের বিপর্যয়

আপাতত ঠেকিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবুও পরিস্থিতি অনিশ্চিত,যে কোনো সময় নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর প্রভাব ইতোমধ্যেই স্পষ্ট। কেউ খরচ কমাতে বাসা থেকে কাজ বাড়াচ্ছেন, কেউ বড় পরিকল্পনা বাতিল করছেন।

পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই আয় কমে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন, এমনকি চিকিৎসার মতো প্রয়োজনীয় খরচও পিছিয়ে দিচ্ছেন অনেকে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, যুদ্ধ এখনই শেষ হলেও অর্থনীতির ক্ষত দ্রুত সারবে না। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে।

ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বহু নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বর্তমান কঠিন বাস্তবতাই হয়ে উঠতে পারে ‘নতুন স্বাভাবিকতা’।