নিষিদ্ধ শূকরের মাংসও আমদানি করতে চেয়েছিলেন ড. ইউনূস

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিতর্কিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সমালোচনার ঝড়

টুইট ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত একটি বাণিজ্য চুক্তিকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিষিদ্ধ শূকরের মাংস আমদানির সুযোগ রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল।

চুক্তিতে বিতর্কিত পণ্যের তালিকা

‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)’ নামের ওই চুক্তির পরিশিষ্টে ব্ল্যাক ফরেস্ট হ্যাম, ব্রাটভুর্স্ট, সালামিসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত মাংসপণ্যের উল্লেখ রয়েছে-যেগুলোর অধিকাংশই শূকরের মাংস থেকে তৈরি।

বাংলাদেশের বিদ্যমান আমদানিনীতি অনুযায়ী শূকর ও শূকরজাত সব পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ। ধর্মীয় ও সামাজিক কারণে এ ধরনের পণ্যের বাণিজ্যিক ব্যবহারও দেশে নেই বললেই চলে।

ধর্মীয় অনুভূতি ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন এই চুক্তিকে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ হিসেবে দেখছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি-এর নেতা ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জনগণের বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কোনো চুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও দাবি উঠেছে, এ ধরনের ‘দেশবিরোধী ও ধর্মবিরোধী’ চুক্তি বাতিল করতে হবে।

মাংস আমদানিতে নতুন শর্ত

চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য বিশেষ করে মাংস ও পোলট্রি আমদানির ক্ষেত্রে কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিদর্শন ব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং তাদের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আমদানি সহজ করতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এতে দেশীয় খামার ও উৎপাদন খাত ক্ষতির মুখে পড়তে পারে, কারণ দেশে ইতোমধ্যেই গরু, মুরগি ও ডেইরি পণ্যের পর্যাপ্ত উৎপাদন রয়েছে।

সরকারের অবস্থান

তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারিভাবে নিষিদ্ধ পণ্যের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে। অর্থাৎ শূকরের মাংস আমদানির নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতা

বাংলাদেশে শূকরের মাংসের চাহিদা অত্যন্ত সীমিত। মূলত কিছু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে এর ব্যবহার সীমাবদ্ধ। ফলে এ ধরনের পণ্য আমদানির বাস্তব প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই বাণিজ্য চুক্তি এখন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং ধর্মীয়-তিন দিক থেকেই তীব্র আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।