সংসদে বক্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক, মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের প্রতিবাদ

ফজলুর রহমানের ভাষাকে ‘অসংসদীয়’ আখ্যা, ৭০ বীর মুক্তিযোদ্ধার যৌথ বিবৃতি।

টুইট প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান-এর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

তার বক্তব্যকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী ও অসংসদীয় আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ।

বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোসলেম উদ্দিন এবং সেক্রেটারি জেনারেল মো. তাজিরুল ইসলামসহ ৭০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা এই প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে মুক্তিযুদ্ধ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নিয়ে চলমান বিতর্ক সংসদ পর্যন্ত গড়িয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সংসদে আক্রমণাত্মক ও ব্যক্তিগত ভাষার ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বিশেষ করে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-কে উদ্দেশ্য করে দেওয়া বক্তব্য সংসদের মর্যাদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন তারা।

মুক্তিযোদ্ধারা তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন মত ও আদর্শের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে স্বাধীন দেশে রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে অনেক মুক্তিযোদ্ধা বিভিন্ন দলে যোগ দিয়েছেন, যা তাদের নাগরিক অধিকার।

সে প্রেক্ষাপটে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে ‘অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তারা মত দেন।

এছাড়া, তারা সংসদ সদস্যের বক্তব্যে তার নিজের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং দাবি করেন, ইতিহাস বিকৃত করে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতীয় সংসদ আইন প্রণয়ন ও জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সর্বোচ্চ মঞ্চ।

সেখানে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা হিংসাত্মক ভাষার ব্যবহার গণতান্ত্রিক চর্চাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তারা।

পরিশেষে, বিভাজনমুখী রাজনীতি পরিহার করে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মুক্তিযোদ্ধারা।

তারা বলেন, সংবিধান সংস্কার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র গড়ে তোলাই হওয়া উচিত সবার লক্ষ্য।