রূপপুরের ব্যয় শোধে লাগবে ২৮ বছর, মিলছে বিদ্যুতের নতুন দিগন্ত

রুশ ঋণে নির্মিত প্রকল্পে বাড়ছে উৎপাদন প্রত্যাশা, নিরাপত্তা ও ব্যয় নিয়ে আলোচনাও জোরালো।

টুইট ডেস্ক: দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যয় পরিশোধে সময় লাগবে ২৮ বছর। প্রায় এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে ৯০ শতাংশ অর্থ ঋণ সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া। প্রকল্প ঘিরে যেমন জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির আশা তৈরি হয়েছে, তেমনি ব্যয় ও উৎপাদন খরচ নিয়েও চলছে আলোচনা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ছয় টাকা ধরা হলেও বর্তমানে তা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ১২ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে প্রকল্পের আর্থিক টেকসইতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সামনে এসেছে।

তবে প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, রূপপুর শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প নয়, এটি দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, দক্ষ জনবল তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তারও বড় বিনিয়োগ। তৃতীয় প্রজন্মের রি-অ্যাক্টর প্রযুক্তি ও বহুস্তর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে এটিকে আধুনিক ও নিরাপদ বলেও দাবি করা হচ্ছে।

৬০ বছর আয়ুষ্কালের এই কেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে আরও ৩০ বছর চালু রাখা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। একই সঙ্গে কম কার্বন নিঃসরণ ও বেশি উৎপাদন সক্ষমতার কারণে এটি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উদ্যোগ হিসেবেও গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং, পরীক্ষামূলক উৎপাদন এবং ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে প্রায় ১০ মাস লাগবে বলে জানানো হয়েছে। পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে এটি দেশের বিদ্যুৎ খাতে বড় পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যয় পরিশোধে দীর্ঘ সময় লাগলেও রূপপুর বাংলাদেশের জ্বালানি ভবিষ্যৎ ও কৌশলগত সক্ষমতার জন্য একটি মাইলফলক প্রকল্প হয়ে উঠতে পারে।