পারিবারিক বিরোধে ‘জুলাই মামলা’, শেখ হাসিনাসহ ৩১০ জনকে জড়ানোর অভিযোগ

ছবি : প্রতীকী

পিবিআই তদন্তে উঠে এলো সাজানো মামলার চিত্র, নেপথ্যে দেনা-পাওনা ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব।

টুইট ডেস্ক: বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহত হওয়ার দাবি তুলে দায়ের করা আলোচিত ‘জুলাই মামলা’ ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পিবিআই তদন্তে বলা হয়েছে, স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক কলহ, আর্থিক বিরোধ ও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকে সাজানো হয় এই মামলা, যেখানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩১০ জনকে আসামি করা হয়েছিল।

১৬ বছরের এক কিশোরকে বাদী করে করা মামলায় আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হওয়ার দাবি করা হলেও তদন্তে অভিযোগের কোনো সত্যতা মেলেনি। পিবিআই বলছে, বাদীর আহত হওয়ার পক্ষে কোনো চিকিৎসা সনদ, প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য বা ভিডিও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, বাদীর বাবার ৫৬ লাখ টাকার দেনা-পাওনা বিরোধ এবং ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরেই পাওনাদার ও পরিচিতদের ফাঁসাতে মামলাটি ব্যবহার করা হয়। এমনকি পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে বাদীর নানা, মামা, খালাসহ আত্মীয়দেরও আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পিবিআইর ভাষ্য, রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বিরোধ নিষ্পত্তির হাতিয়ার বানানোর চেষ্টা ছিল এটি। তদন্ত শেষে মামলার সব আসামির অব্যাহতি চেয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি শুধু একটি সাজানো মামলার অভিযোগ নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় আইন ব্যবস্থাকে অপব্যবহারের ঝুঁকিও সামনে এনেছে।