৫ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ লক্ষ্যমাত্রা

জমি সংকট কাটাতে সরকারি খাস ও অব্যবহৃত জমি ব্যবহারের পরিকল্পনা, বিনিয়োগ টানতে কর-সুবিধার ইঙ্গিত
টুইট ডেস্ক: দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে বড়সড় ঝুঁকছে সরকার।
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণের কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
সোমবার রাজধানীর গুলশানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ফোরাম’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান সংকট কাটাতে শুধু উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য আনা এখন সময়ের দাবি।
সরকারি অব্যবহৃত জমি সৌর প্রকল্পে কাজে লাগাতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন সংস্থার অধীনে থাকা খালি জমি চিহ্নিত করে বড় আকারে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। যমুনা নদীর তীরবর্তী ভাঙনে সৃষ্ট খাস জমিও এ পরিকল্পনার আওতায় আনা হচ্ছে।
পাশাপাশি রেলওয়সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জমিও বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি উৎপাদকদের বিপুল বকেয়া, ডলার সংকট এবং জ্বালানি আমদানির উচ্চ ব্যয় পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। তেলের আমদানি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার এবং বিদ্যুৎ খাতে এখনো ৫৬ হাজার কোটি টাকার বেশি বকেয়া রয়ে গেছে।
তবে আগামী কয়েক সপ্তাহে লোডশেডিং পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
বিনিয়োগ বাড়াতে কর-সুবিধা ও প্রণোদনার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসবেন। অতীতে শিল্পখাতে কর ছাড়ের ইতিবাচক প্রভাবের উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, সৌরবিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিনের বড় বাধা ছিল জমি সংকট।
এ সমস্যা সমাধানে নতুন নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে, যার আওতায় ১৫ থেকে ২০ বছরের জন্য সরকারি জমি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে।
তিনি জানান, ফেনীর সোনাগাজীতে ইতোমধ্যে একটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। সরকারের অংশীদারিত্ব থাকায় ব্যাংক ঋণপ্রাপ্তি সহজ হবে এবং ৫০ মেগাওয়াটের বেশি সক্ষমতার বড় প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের পথ তৈরি হবে।
এদিকে, সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বৈশ্বিকভাবে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতি অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি দেশের মূল্যস্ফীতি ও অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করে।
তাই দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য শক্তির বিকল্প নেই।
তিনি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সবুজ বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু সৌর প্রকল্প বাতিল হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ধাক্কা লেগেছে, যা বড় অঙ্কের সম্ভাব্য বিনিয়োগকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নীতিগত স্থিতিশীলতা, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতই হতে পারে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের টেকসই সমাধান।






