রাষ্ট্রপতিকে বদিউল আলমের তীব্র মন্তব্যে উত্তাপ

রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে বদিউল আলমের বিস্ফোরক অভিযোগ, ব্যাংক সংস্কারে কঠোর বার্তা।
টুইট প্রতিবেদক: রাজধানীতে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার দেশের রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির বর্তমান অবস্থান ‘বঙ্গভবন নয়, জেলখানায় হওয়া উচিত,এমন মন্তব্য করে তিনি ব্যাংক খাতের লুটপাটের সঙ্গে অতীত সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলেন।শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ‘সংশোধিত ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬’ নিয়ে আয়োজিত আলোচনায় তিনি দাবি করেন, দেশের ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে প্রথমেই লুটেরাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
একই সঙ্গে তিনি পদ্ধতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর জোর দেন।ব্যাংকিং খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে বদিউল আলম বলেন, নগদহীন লেনদেন ব্যবস্থা জোরদার এবং হুন্ডি বন্ধ না হলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়।
পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক-কে স্বাধীন ও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তার মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা না থাকায় অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আর্থিক অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে।আলোচনায় অংশ নিয়ে তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, দেশে প্রচুর আইন থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগের ঘাটতি রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, নতুন ব্যাংক রেজুলেশন আইন অপরাধীদের দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি করছে, যেখানে আমানতকারীদের স্বার্থ যথাযথভাবে সুরক্ষিত হচ্ছে না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দুর্বল ব্যাংকের জন্য কার্যকর ‘এক্সিট নীতি’ না থাকায় লোকসানি প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে, যার বোঝা শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপর পড়ে।
অন্যদিকে, মুশতাক খান সতর্ক করে বলেন, কোনো ব্যাংক হঠাৎ বন্ধ করে দিলে ‘ব্যাংক রান’-এর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একটি ব্যাংকের সংকট দ্রুত পুরো খাতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা আর্থিক স্থিতিশীলতাকে বিপর্যস্ত করতে পারে।
বক্তারা সমালোচনা করে বলেন, সংশোধিত আইনের কিছু ধারা অতীতে অভিযুক্তদের আবার ব্যাংকের মালিকানায় ফেরার সুযোগ করে দিতে পারে, যা খাতটিকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
সার্বিকভাবে আলোচনায় উঠে আসে,ব্যাংক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে কেবল আইন প্রণয়ন নয়, বরং কঠোর বাস্তবায়ন, জবাবদিহিতা এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।






