মুরগি ও সবজিতে স্বস্তি, মাছ-মাংসের দাম চড়া

মুরগির দাম কমলেও জ্বালানি ব্যয়ে চড়া নিত্যপণ্য, চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত

টুইট ডেস্ক: রাজধানীর বাজারে মুরগি ও সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছ, মাংস ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যে ভোগান্তি কমেনি সাধারণ মানুষের। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিজনিত পরিবহন ব্যয়কে বাজারের এই বিপরীতমুখী চিত্রের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির দামে উল্লেখযোগ্য পতন এসেছে। সোনালি মুরগি কেজিতে ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা এবং ব্রয়লার ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবজির বাজারেও সরবরাহ বাড়ায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। পটল, করলাসহ বেশিরভাগ মৌসুমি সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

তবে এই স্বস্তি ছাপিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে মাছ ও মাংসের বাজার। মাঝারি মানের রুই ৩৪০ থেকে ৩৭০ টাকা এবং বড় রুই ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া, পাবদা, শোল ও টেংরাসহ বিভিন্ন মাছের দামও ঊর্ধ্বমুখী। গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকায় স্থির থাকায় তা এখনও অনেকের নাগালের বাইরে।

শুধু মাছ-মাংস নয়, চাল, ডিম, চিনি ও পেঁয়াজের বাজারেও চাপ রয়েছে। মাঝারি মানের চালের দাম কেজিতে বেড়েছে কয়েক টাকা। এক ডজন ডিম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ক্রেতাদের বাড়তি উদ্বেগে ফেলেছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি থেকে খুচরা—সব পর্যায়েই এর প্রভাব পড়ছে। সেই বাড়তি ব্যয়ের চাপ শেষ পর্যন্ত ভোক্তার কাঁধেই পড়ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজারে কিছু পণ্যে মূল্যহ্রাস হলেও সামগ্রিকভাবে ভোক্তা স্বস্তি ফেরেনি। কারণ খাদ্য ব্যয়ের বড় অংশজুড়ে থাকা মাছ, মাংস, ডিম ও চালের উচ্চমূল্য নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রায় চাপ বাড়াচ্ছে।

ক্রেতারা বলছেন, সবজি ও মুরগিতে সাময়িক স্বস্তি মিললেও নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্য পণ্যের দাম না কমলে প্রকৃত স্বস্তি ফিরবে না। তাদের দাবি, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, বাজার তদারকি এবং পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে এখন আংশিক স্বস্তি ও সামগ্রিক চাপ—দুই বাস্তবতা পাশাপাশি চলছে। এই পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপই হতে পারে বড় প্রত্যাশা।