রাতভর সেনা অভিযানে অপহৃত ৬ শ্রমিক উদ্ধার

টংকাবতীর দুর্গম পাহাড়ে চিরুনি অভিযানে সফলতা, সন্দেহভাজন আটক
নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান: বান্দরবানের টংকাবতীতে অজ্ঞাত সশস্ত্র গোষ্ঠীর অপহরণের শিকার ৬ রাবার শ্রমিককে রাতভর অভিযানে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। দুর্গম পাহাড়ে চিরুনি অভিযানের পর শুক্রবার ভোরে এই উদ্ধার অভিযানে সাফল্য আসে। এ ঘটনায় এক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ এপ্রিল গভীর রাতে বান্দরবান সদর উপজেলার টংকাবতী ইউনিয়নের একটি রাবার বাগান থেকে ৬ শ্রমিককে তুলে নিয়ে যায় সশস্ত্র অপহরণকারীরা। পরদিন অপহরণকারীরা বাগান মালিকের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে জিম্মিদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
ঘটনার পরপরই বান্দরবান সেনা জোনের ২৮ ই বেঙ্গল সম্ভাব্য অপহরণস্থল ও আশপাশের দুর্গম এলাকায় ব্যাপক অভিযান শুরু করে। টানা অভিযান ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোরে সেনা সদস্যরা অপহৃতদের অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। সেনা উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা শ্রমিকদের ফেলে পালিয়ে গেলে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া শ্রমিকরা হলেন-মো. ইসমাইল, মো. আরাফাত, মো. শফিক, মো. নুরুল আফসার, মো. কলিমুল্লা ও মো. রমিত। প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অভিযানে ম্যাংতাং ম্রো (৩০) নামে এক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। তার বাড়ি টংকাবতীর লাকড়িপাড়া এলাকায়। তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অপহরণের মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় দ্রুত ও সমন্বিত অভিযান শুধু জিম্মিদের জীবন রক্ষা করেনি, পাহাড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতারও বার্তা দিয়েছে। বিশেষ করে মুক্তিপণ দাবির মতো সংগঠিত অপরাধের ঘটনায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।
স্থানীয়দের মতে, পাহাড়ি জনপদে অপহরণ ও সশস্ত্র তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এই অভিযান জনমনে আস্থা ফিরিয়েছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।






