একদিনে তিন স্থানে সংঘর্ষ, ছাত্ররাজনীতিতে উত্তেজনা তুঙ্গে

শাহবাগে থানার ভেতরে হামলার অভিযোগ, কুমিল্লা ও ঈশ্বরদীতে আহত ও বিস্ফোরণে আতঙ্ক।
টুইট ডেস্ক: দেশের ছাত্ররাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। একদিনেই রাজধানীসহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক ধারাবাহিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটে। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কয়েকজন নেতা শাহবাগ থানায় আশ্রয় নেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, থানা প্রাঙ্গণের ভেতরেও ঢুকে হামলা চালানো হয়, এতে একজন ছাত্রনেতা আহত হন। এই ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
এর আগে সন্ধ্যায় কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন। একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া উত্তেজনা দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনাও ঘটেছে। যদিও উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে এবং দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে।
একই দিনে দুপুরে পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেখানে সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যা পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, যদিও সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনও নিশ্চিত হয়নি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘গুপ্ত লেখা’কে কেন্দ্র করে সম্প্রতি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা এখন সংঘাতের রূপ নিচ্ছে।
এর আগে চট্টগ্রামেও একই ইস্যুতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যা এই ধারাবাহিক সহিংসতার পূর্বাভাস দিয়েছিল।
সামগ্রিক পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন সহনশীলতার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এই উত্তেজনা আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।






