পদোন্নতি জটে অচল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

দুই দিনের কর্মবিরতিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ক্লাস–পরীক্ষা বন্ধে শিক্ষার্থীদের সেশনজটের শঙ্কা
টুইট প্রতিবেদক: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) পদোন্নতি, শিক্ষক সংকট ও প্রশাসনিক বিধিমালার জটিলতা নিয়ে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। এর জেরে টানা দুই দিনের কর্মবিরতি ও ‘কমপ্লিট শাটডাউন’-এ অচল হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক কার্যক্রম।
মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া কর্মবিরতি বুধবার আরও বিস্তৃত হয়ে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনে রূপ নেয়। এতে সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। ফাইনাল পরীক্ষাও স্থগিত হয়ে সেশনজটের আশঙ্কা আরও গভীর হয়েছে।
শিক্ষক আন্দোলনে অচল ক্যাম্পাস
শিক্ষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি জটিলতা, অনুমোদিত পদে শূন্যতা এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা সমাধান হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনায় নতুন বিধিমালা প্রণয়ন ও সংশোধনে চ্যান্সেলরের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করায় প্রশাসনিক জটিলতা আরও বেড়েছে বলে দাবি তাদের।
শিক্ষকদের বিবৃতিতে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৫১টি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে এবং ২৪ জন শিক্ষকের পদোন্নতির সুপারিশ দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়ন হয়নি।
পাশাপাশি খণ্ডকালীন শিক্ষকদের ভাতা বন্ধ থাকায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে,্এর আগে পদোন্নতির দাবিতে এক শিক্ষক অনশন শুরু করলেও পরে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে তা প্রত্যাহার করেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ ও ক্ষোভ।ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, চলমান পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে তাদের শিক্ষাজীবনে বড় ধরনের সেশনজট তৈরি হবে।
এক শিক্ষার্থী জানান, ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকায় ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রম ফেরার দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসনের অবস্থান
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, সংকট সমাধানে আলোচনা ও উদ্যোগ চলমান রয়েছে। উপাচার্য বলেন, শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবির বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি না হয়।
অচলাবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে ববি
পদোন্নতি, শিক্ষক সংকট ও নীতিগত জটিলতার ত্রিমুখী চাপ এখন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে কার্যত অচল অবস্থায় নিয়ে গেছে।
সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।






