লোডশেডিংয়ের তথ্য নিয়ে গরমিলের অভিযোগ

চাহিদা-উৎপাদন ঘাটতি বাড়ছে; গ্রামাঞ্চলে বাড়ছে ভোগান্তি।
টুইট ডেস্ক: দেশে তাপপ্রবাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম থাকায় নগর ও গ্রাম-উভয় এলাকাতেই ভোগান্তি বাড়ছে। তবে সরকারি তথ্যে বাস্তব চিত্র পুরোপুরি প্রতিফলিত হচ্ছে না-এমন অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীনতা
তথ্য অনুযায়ী, শহরাঞ্চলে লোডশেডিং কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকলেও গ্রামাঞ্চলে প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি কৃষি ও শিক্ষাখাতে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
চাহিদা-উৎপাদনে বড় ঘাটতি
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে গড়ে বিদ্যুতের চাহিদা ১৫ থেকে সাড়ে ১৬ হাজার মেগাওয়াট। বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট। গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
একাধিক কেন্দ্র বন্ধ, উৎপাদন কমেছে
দেশে মোট ১৩৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ১৮টি কেন্দ্র সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ৩৫টি কেন্দ্রে উৎপাদন কমে গেছে। জ্বালানি সংকট, যান্ত্রিক ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণ সমস্যাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্য গরমিল নিয়ে প্রশ্ন
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, লোডশেডিংয়ের পরিসংখ্যানে বড় ধরনের গরমিল রয়েছে। কোথাও ঘাটতি কম দেখানো হলেও বাস্তবে সরবরাহ ঘাটতি বেশি থাকছে—এমন অভিযোগ উঠেছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত পরিস্থিতি আড়াল করায় সংকট ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।
জ্বালানি সংকট ও আন্তর্জাতিক প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কয়লা ও গ্যাস সরবরাহে সীমাবদ্ধতা থাকায় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা যাচ্ছে না।
শিল্প, কৃষি ও শিক্ষায় প্রভাব
ঘন ঘন বিদ্যুৎবিভ্রাটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পোশাকসহ বিভিন্ন খাতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
অন্যদিকে কৃষকরা সেচ কার্যক্রমে বাধার মুখে পড়ছেন। বিদ্যুৎচালিত পাম্প ঠিকমতো চালানো না যাওয়ায় ফসল উৎপাদনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এসএসসি পরীক্ষার্থীরাও লোডশেডিংয়ের কারণে পড়ালেখায় বিঘ্নের মুখে পড়ছে বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিকের চেষ্টা
পিডিবি জানিয়েছে, কয়লা ও গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ শেষ করে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে তাপমাত্রা কমা ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সংকট পুরোপুরি কাটানো কঠিন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।






