চট্টগ্রাম সিটি কলেজে সংঘর্ষ: শিবির কর্মীর পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন

গ্রাফিতি ঘিরে ছাত্রদল–শিবির দফায় দফায় সংঘর্ষ, উত্তেজনায় কাঁপলো ক্যাম্পাস।

টুইট যুদ্ধে: চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে গ্রাফিতি ঘিরে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে এক শিক্ষার্থীর পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত ওই শিক্ষার্থীর নাম আশরাফুল ইসলাম। তিনি নগরের আগ্রাবাদ সরাইপাড়া ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সভাপতি বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরে পুলিশ ও কলেজ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে এলেও বিকেলে ফের সংঘর্ষ শুরু হয়।

বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সংঘর্ষ চলাকালে আশরাফুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে আহত অবস্থায় তাকে সহপাঠীরা রিকশায় তুলে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। ছাত্রশিবির মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন অভিযোগ করেন, তাদের কর্মীরা পরীক্ষা দিতে এসে পরিকল্পিত হামলার শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, উল্টো শিবিরই প্রথম হামলা চালিয়েছে এবং তাদেরও কয়েকজন আহত হয়েছে।

কলেজ সূত্র জানায়, একটি ভবনের দেয়ালে আঁকা ‘জুলাই আন্দোলন’–সংক্রান্ত গ্রাফিতিতে ‘ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখা ছিল।

অভিযোগ ওঠে, ছাত্রদলের একাংশ ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে তার জায়গায় ‘গুপ্ত’ লিখে দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

নগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া বলেন, উভয় পক্ষই শিক্ষার্থী হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে সংযত ভূমিকা নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে সক্রিয় ছিল।

কলেজের অধ্যক্ষ আবু সালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন জানান, দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, তবে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ চলছে।

এ ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে উদ্বেগ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ দ্রুত স্থায়ী সমাধান ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।