ক্যাম্পাসে অস্ত্রের ঝলক, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

ভাইরাল ভিডিও ঘিরে চট্টগ্রাম সিটি কলেজে সংঘর্ষ, জড়িতদের শনাক্তে ব্যর্থ প্রশাসন।
টুইট প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় অস্ত্র হাতে হামলার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা ব্যক্তিদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি বলে জানিয়েছে প্রশাসন। এতে করে ক্যাম্পাসজুড়ে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনা বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকজনকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র,কিরিচ ও রামদা হাতে ক্যাম্পাসে দৌঁড়াতে দেখা যায়।
তাদের অনেকের মুখ কাপড় বা মুখোশে ঢাকা ছিল, আবার কেউ কেউ হেলমেট পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, তারা সরাসরি প্রতিপক্ষের দিকে অগ্রসর হয়ে সংঘর্ষে অংশ নিচ্ছে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ‘জুলাই আন্দোলনের’ গ্রাফিতি ঘিরে বিরোধের সূত্রপাত। গ্রাফিতিতে লেখা ‘ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’ বাক্যের ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে ‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে অভিযোগ ওঠে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরই ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে।
সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একজন ছাত্রশিবির কর্মীর পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও বাড়িয়েছে। আহতদের অনেককে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ছাত্রশিবির মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন অভিযোগ করেছেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা এবং এতে তিনি নিজেও গুরুতর আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ছাত্রদল দাবি করেছে, তাদের ওপরই হামলা চালানো হয়েছে এবং তাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও কলেজ প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে। তবে অস্ত্র হাতে যেসব ব্যক্তি ভিডিওতে দেখা গেছে, তাদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আফতাব উদ্দিন বলেন, “ভিডিও বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সহিংসতা ও প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন উদ্বেগজনক প্রবণতা। প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।






