রামেকে কর্মবিরতি, চিকিৎসা ব্যাহত

ইন্টার্নদের নিরাপত্তাহীনতায় ক্ষোভ; দ্রুত সমাধান না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ডাকা ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতিতে চিকিৎসাসেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির ফলে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসক সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে, যার সরাসরি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ রোগীরা।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ, ধারাবাহিকভাবে রোগীর স্বজনদের হাতে হেনস্তা ও অপদস্থ হওয়ার ঘটনাই তাদের এই কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য করেছে। গত রোববার ও সোমবার,পরপর দুই দিনে তিনজন ইন্টার্ন চিকিৎসক লাঞ্ছনার শিকা্য¯ এক ধরনের কার হন।
এর মধ্যে একটি ঘটনায় নারী চিকিৎসককে ঘিরে ধরে অপদস্থ করার অভিযোগ উঠে, যা চিকিৎসকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করেছে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেও তারা নিরাপদ কর্মপরিবেশ পাচ্ছেন না। প্রতিদিন গড়ে ১৪ ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করলেও বারবার অপমান ও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। এসব ঘটনার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অবস্থান করছেন। পাশাপাশি বুধবার সকাল ৯টায় এক ঘণ্টার মানববন্ধনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। তাদের দাবি,দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত, দোষীদের শাস্তি এবং হাসপাতালজুড়ে কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
অন্যথায় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
এদিকে, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনুপস্থিতিতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন সেবাখাতে চাপ বেড়েছে বহুগুণ।
ভর্তি রোগীদের নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ফলোআপ কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। ফলে চিকিৎসা ব্যবস্থায় এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভও বাড়ছে। অনেকেই বলছেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকরাই হাসপাতালে নৌ সার্বক্ষণিক সেবার প্রধান ভরসা। তাদের অনুপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, চিকিৎসকদের নিরাপত্তাহীনতা এবং রোগীদের সেবা বঞ্চনা,এই দ্বৈত সংকট দ্রুত নিরসন না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিতে পারে।
তাই প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত ফিরিয়ে আনার দাবি জোরালো হচ্ছে।






