আজ শুরু এসএসসি পরীক্ষা: প্রবেশপত্র নিতে গুনতে হলো ৫০০ টাকা

পরীক্ষার দিনে চরম অনিয়মের অভিযোগ।
রাজশাহীতে প্রবেশপত্রের নামে অর্থ আদায় ও শিক্ষার্থীদের অপমান। তদন্ত ও বিচার দাবি।

রাজশাহী প্রতিনি‌ধি: দেশজুড়ে যখন আজ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা শুরু হচ্ছে, তখনই রাজশাহী জেলার তাহেরপুর পৌরসভার সুলতানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে (তালতলী উচ্চ বিদ্যালয়) পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রবেশপত্র প্রদানের নামে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায় করেন। জানা গেছে, সুলতানপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার মোট ৬১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।

স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গ্রামের কৃষক ও দিনমজুর পরিবারের শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয়। এমনকি প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের অপমান করেছেন এবং প‌রিক্ষায় সমস‌্যা হওয়ার ভী‌তি দে‌খি‌য়ে‌ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ আরও রয়েছে, পরীক্ষার আগের দিনও কিছু শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করা হয় এবং টাকা না দিলে প্রবেশপত্র দেওয়া হবে না এমন চাপ প্রয়োগ করা হয়। এতে বহু শিক্ষার্থী ও অভিভাবক চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

স্থানীয়দের দাবি, প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে দায়িত্বে থাকলেও অনিয়ম ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ নতুন নয়। অভিযোগকারীরা আরও বলেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে তিনি দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন গ্রহণ করেছেন এবং অনিয়মিতভাবে উপস্থিতি দেখিয়েছেন।

এদিকে, সারাদেশে আজ থেকে শুরু হয়েছে চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার প্রায় ১৮ লাখ ৫৭ হাজার শিক্ষার্থী তিন হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

তবে পরীক্ষার প্রথম দিনেই রাজশাহীর এই ঘটনা শিক্ষা প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আদায়কৃত অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।

শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এমন অভিযোগ শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপে ফেলে এবং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থাকে দুর্বল করে। তারা বলছেন, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে অবিলম্বে বিচার ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জোরালো হচ্ছে।