রাজশাহীতে ছাত্রদল নেতার ওপর হামলা: ‘সিক্সস্টার’ গ্রুপ নিয়ে আতঙ্ক

পুকুর দখল নিয়ে রক্তাক্ত। বাগমারায় ছাত্রদল নেতার ওপর হামলা, অন্তত ১০ আহত।

রাজশাহী প্রতি‌নি‌ধি: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুরে পুকুরের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিরোধ রূপ নিয়েছে সহিংস সংঘর্ষে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগ সংশ্লিষ্ট এক নেতার পুকুর দখল ও ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ছাত্রদল নেতার ওপর হামলার ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে তাহেরপুর এলাকায় ১২০ বিঘার একটি পুকুরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে উভয় পক্ষের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে বৈঠক শুরুর আগেই ১০-১২টি মাইক্রোবাসে করে বহিরাগতদের উপস্থিতি পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে। একপর্যায়ে তাহেরপুর পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল রানাকে লক্ষ্য করে হুমকি দেওয়া হয়। এরপর উত্তেজনা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোহেল রানাকে অপহরণের চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন ও তার সমর্থকেরা বাধা দেন। এতে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে এক স্কুলশিক্ষকসহ অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন।
সংঘর্ষের পর স্থানীয় জনতা পাল্টা ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা পালানোর সময় গুলি ছোড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ সময় দুইজনকে আটক করে জনতা পুলিশের হাতে তুলে দেয়। আটকরা হলেন নগরীর রানীনগর এলাকার সোহাগ আলী (২৪) ও সজিব রহমান (২৮)। পরে মামলা না হওয়ায় শুক্রবার সকালে তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ।

ঘটনার পেছনে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থের জটিলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জানা গেছে, পুকুরটি প্রথমে এক যুবলীগ নেতার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পরবর্তীতে ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ইজারার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থতার অভিযোগে পূর্বের চুক্তি বাতিল করে ছাত্রদল নেতা সোহেল রানার পক্ষে নতুন করে ইজারা দেওয়া হয়। তবে আগের পক্ষ পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে সংঘাত চরমে পৌঁছে।

ছাত্রদল নেতা সোহেল রানা অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল ভাড়াটে বাহিনী ব্যবহার করে তাকে অপহরণের চেষ্টা করে এবং তার সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ‘সিক্সস্টার’ নামে পরিচিত একটি সংঘবদ্ধ গ্রুপ এলাকায় দখল ও নিয়ন্ত্রণের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যা জনমনে নতুন আতঙ্ক তৈরি করেছে। তবে আগামী দিনগুলোতে বাগমারায় আসন্ন পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও সহিংস হয়ে উঠতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, এখনো কোনো মামলা হয়নি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনা কেবল একটি পুকুর দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ নয়; বরং স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ের প্রতিফলন। ২০২৪ সালের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ক্ষমতার শূন্যতা ও পুনর্বিন্যাসের সুযোগে বিভিন্ন এলাকায় নতুন শক্তির উত্থান ঘটছে, বাগমারার এই সংঘর্ষ তারই একটি উদাহরণ।

প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার না হলে এ ধরনের সহিংসতা আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।