রূপপুরে কমিশনিং লাইসেন্স

বিদ্যুৎ উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে প্রথম পারমাণবিক কেন্দ্র, নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্কতার বার্তা।

টুইট প্রতিবেদক: দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর প্রথম ইউনিট কমিশনিং লাইসেন্স পেয়েছে।

এর মাধ্যমে কেন্দ্রটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশের পথ সুগম হলো।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্রের পর চলতি এপ্রিলের শেষ দিকে প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং শুরু হতে পারে।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে উদ্বোধনের প্রস্তুতি থাকলেও কিছু ‘গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ইস্যু’ সামনে আসায় সময় নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রকল্প,সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এখন পরিস্থিতি সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।”

তিনি আরও জানান, জ্বালানি লোডিংয়ের সময় নিজে উপস্থিত থেকে পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করবেন।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন তিনি।

২ দশমিক ৪ গিগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই প্রকল্পটি পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত এবং এটি দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটোম স্টেট অ্যাটমিক এনার্জি করপোরেশন-এর সহযোগিতায় নির্মিত এই প্রকল্প বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় কৌশলগত পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়সূচি একাধিকবার পরিবর্তিত হয়েছে। সর্বশেষ সংশোধন অনুযায়ী, প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন শুরু করা নিয়ে এখনো চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কমিশনিং লাইসেন্স পাওয়া বড় অগ্রগতি হলেও সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে নিরাপদ জ্বালানি লোডিং ও পরীক্ষামূলক উৎপাদন।

এসব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ খাতে এক নতুন যুগে প্রবেশ করবে।