বহিষ্কারের পরও রক্ষা নয়,আবার ইয়াবাসহ ধরা যুবদল নেতা

৬ মাস আগে একই অভিযোগে বহিষ্কার; গোপনে পদ ফিরিয়ে দিয়ে ফের মাদক কারবার—দলে প্রশ্নের ঝড়?

টুইট ডেস্ক: গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় মাদক কারবারের অভিযোগে বহিষ্কৃত এক যুবদল নেতা পুনরায় পদে ফিরে এসে আবারো ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন।

ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতে সাঘাটা থানার একটি দল বারোকোনা বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

এ সময় রিয়াদ-রাহাত মোবাইল পয়েন্টের সামনে অভিযান চালিয়ে সাইফুল ইসলাম ও নাজমুল হক নয়নকে আটক করা হয়। তাদের দেহ তল্লাশি করে ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

অভিযানের সময় ইসমাইল হোসেন নামের আরেক ব্যক্তি পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাঘাটা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কামালেরপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর নিজ বাড়ি থেকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হন।

পরদিন তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি তাকে গোপনে পুনরায় একই পদে ফিরিয়ে দেয়।

অভিযোগ রয়েছে, পদ ফিরে পাওয়ার পর থেকেই তিনি আবারো মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।

সর্বশেষ গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সেই অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে।

এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইখতিয়ার আহমেদ সুজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাদক কারবারীদের দলে কোনো স্থান থাকার কথা নয়।

কিন্তু বাস্তবে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। এতে দলে সৎ ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন।

অন্যদিকে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আহমেদ কবির শাহীন বলেন, বিশেষ পরিস্থিতিতে তাকে দলে নেওয়া হয়েছিল।

তবে অভিযোগ যেহেতু গুরুতর, এবার জেলা কমিটির মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বারবার একই অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দলে ফিরিয়ে আনা সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।

পাশাপাশি মাদকবিরোধী অবস্থান নিয়েও দলের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।