নীরব বহিষ্কার ফিরছে এসএসসিতে

অসদুপায় রোধে কঠোর নীতি, পরীক্ষার্থীরা বুঝতেই পারবে না বহিষ্কার।

টুইট প্রতিবেদক: চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে আবারও চালু হচ্ছে ‘নীরব বহিষ্কার’ বা সাইলেন্ট এক্সপেল পদ্ধতি।

নতুন পরীক্ষা পরিচালনা নীতিমালায় এ নির্দেশনা স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা পরীক্ষায় অনিয়ম ঠেকাতে শিক্ষা প্রশাসনের কঠোর অবস্থানকে সামনে এনেছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো পরীক্ষার্থীকে সরাসরি হাতেনাতে আটক না করেও নিয়ম ভঙ্গ বা অসদুপায়ের অভিযোগে ‘নীরব বহিষ্কার’ করা যাবে।

এতে পরীক্ষার্থী তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারবে না যে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তবে পরবর্তীতে তার উত্তরপত্র বাতিল হিসেবে গণ্য হবে।

পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরীক্ষার হলে কথা বলা, অন্যের খাতা দেখা, ঘাড় ঘোরানো কিংবা সন্দেহজনক আচরণ দেখা গেলেই দায়িত্বরত পরিদর্শক এই ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

এতে পরীক্ষার পরিবেশে কোনো তাৎক্ষণিক উত্তেজনা তৈরি না করে গোপনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব হবে।

নতুন নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, যেসব পরীক্ষার্থী ‘নীরব বহিষ্কার’-এর আওতায় পড়বে, তাদের উত্তরপত্র আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট খামের ওপর লাল কালিতে ‘রিপোর্টেড’ লিখে তা পৃথকভাবে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি প্রত্যবেক্ষকের প্রতিবেদনে ঘটনার বিস্তারিত কারণ উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

তবে এই ব্যবস্থার মধ্যেও পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি সুযোগ রাখা হয়েছে।

নীরব বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে অংশ নিতে পারবে। কিন্তু তাদের প্রতিটি পরীক্ষার উত্তরপত্র আলাদা করে জমা দিতে হবে এবং আগের ঘটনার উল্লেখসহ প্রতিবেদন সংযুক্ত করতে হবে।

শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘নীরব বহিষ্কার’ পদ্ধতি পরীক্ষার শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অসদুপায় বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

একই সঙ্গে এটি প্রকাশ্য শাস্তির কারণে সৃষ্ট মানসিক চাপ ও বিশৃঙ্খলা এড়াতেও সহায়ক হবে বলে মনে করছেন তারা।