এনসিপিতে ভিড়ছে জুলাইয়ের মুখ

ঐক্যের পথে অগ্রগতি; তরুণ, পেশাজীবী ও বিএনপি ঘরানার অংশ যুক্ত হওয়ার আলোচনা।
টুইট প্রতিবেদক: তরুণদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিজেদের শক্তি বাড়াতে বহুমুখী উদ্যোগ জোরদার করেছে।
বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদবিরোধী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত একাধিক পরিচিত মুখ দলটিতে যোগ দিতে যাচ্ছে,এমন আভাস মিলেছে দলীয় একাধিক সূত্রে।
একই সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও পেশাজীবী মহলের সঙ্গে চলমান আলোচনাও ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে বলে দাবি এনসিপি নেতাদের।
দলীয় সূত্র জানায়, আপ বাংলাদেশ, এবি পার্টি এবং জুলাই আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও সামনের সারির সংগঠকদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ ও মতবিনিময় চলছে।
এসব আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপির বিভিন্ন স্তরের বঞ্চিত নেতা, নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী এবং প্রভাবশালী নেতাদের সন্তানদের একটি অংশও এনসিপিতে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, গণতন্ত্রপন্থি ও ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তিকে এক প্ল্যাটফর্মে আনাই তাদের লক্ষ্য।
তার ভাষায়, “জুলাই শক্তিগুলোর বিচ্ছিন্ন লড়াইয়ের চেয়ে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগই বেশি কার্যকর হবে।”
তিনি জানান, বিভিন্ন মহলের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে।
দলটির আরেকটি সূত্র জানায়, দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষক, দেশ-বিদেশের গবেষক, নারী নেতৃত্ব এবং ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গেও নিয়মিত সংলাপ চলছে।
তাদের মধ্য থেকে কয়েকজন আলোচিত ব্যক্তিত্ব শিগগিরই এনসিপিতে যোগ দিতে পারেন।
এর মাধ্যমে সরকারে চাপ সৃষ্টি এবং বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের কৌশল নিচ্ছে দলটি।
তবে সম্ভাব্য জোট বা একীভূত হওয়ার প্রশ্নে সব পক্ষ সমানভাবে আশাবাদী নয়। এবি পার্টির একটি সূত্র বলছে, এনসিপির সঙ্গে আলোচনা চললেও এখনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি।
দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু স্পষ্ট করেছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে একীভূত হওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি; প্রচলিত আলোচনা অনেকটাই ধারণানির্ভর।
এদিকে, জুলাইভিত্তিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম,যেমন জুলাই সংগ্রাম পরিষদ, জুলাই বিপ্লব পরিষদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক সংগঠনগুলোর একটি অংশ এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে এগিয়েছে বলে জানা গেছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক, ছাত্রনেতা ও তরুণ সংগঠকদের অংশগ্রহণও বাড়তে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বিএনপির সাম্প্রতিক অবস্থান নিয়ে দলের ভেতরে ও বাইরে যে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে, তা এনসিপির জন্য সুযোগ তৈরি করছে।
দলটির যুগ্ম সদস্যসচিব আকরাম হুসাইন সিএফ জানান, বিভিন্ন পর্যায়ের তরুণ নেতা, একাডেমিশিয়ান ও পেশাজীবীদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, যা এনসিপির সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করবে।
দলীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি এপ্রিলেই একটি সাধারণ সভা আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে।
সেখানে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি, কমিটির আকার বৃদ্ধি এবং উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
সূত্র বলছে, একাধিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনা সফল হলে অন্তত অর্ধশত নতুন মুখ এনসিপিতে যুক্ত হতে পারেন।
এনসিপি নেতৃত্ব মনে করছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঐক্যের বিকল্প নেই।
সে লক্ষ্যেই তারা নিজেদেরকে একটি বিস্তৃত, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে,যা আগামী দিনের রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।






