গুলিতে ঝাঁঝরা তায়িম, ট্রাইব্যুনালে বাবার হৃদয়বিদারক জবানবন্দি

“একটা মানুষ মারতে কয়টি গুলি লাগে?” আদালতে প্রশ্ন পুলিশ কর্মকর্তা পিতার; সুরতহাল রিপোর্ট নিয়েও উঠল গুরুতর অভিযোগ।
টুইট ডেস্ক: যাত্রাবাড়ীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিতে নিহত ইমাম হাসান তায়িম ভূইয়ার হত্যাকাণ্ডে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আবেগঘন জবানবন্দি দিয়েছেন তার বাবা, পুলিশ কর্মকর্তা এসআই ময়নাল হোসেন।
বুধবার দেওয়া এই জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, তার ছেলেকে কাছ থেকে একাধিকবার গুলি করা হয় এবং পরে ঘটনাটি আড়াল করতে সুরতহাল প্রতিবেদনে অসঙ্গতি রাখা হয়।
ময়নাল হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই দুপুরে বন্ধুদের ডাকে বাসা থেকে বের হয় তায়িম।
কিছুক্ষণ পরই পরিবারের কাছে খবর আসে, কাজলা ফুটওভার ব্রিজ এলাকায় তাকে গুলি করে ফেলে রাখা হয়েছে।
খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান। কিন্তু সেখানে ছেলেকে জীবিত অবস্থায় না পেয়ে, এক সাংবাদিকের মোবাইলে থাকা মৃতদেহের ছবিতে নিজের ছেলেকে শনাক্ত করেন।
তিনি জানান, পরে মর্গে গিয়ে অসংখ্য লাশের ভিড়ে দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে তায়িমের মরদেহ খুঁজে পান।
“আমার ছেলের বুক, পেট, পা সব জায়গায় গুলির চিহ্ন ছিল। তখন আমি প্রশ্ন করি,একটা মানুষ মারতে কয়টি গুলি লাগে?” আদালতে বলেন তিনি।
জবানবন্দিতে আরও উঠে আসে, সুরতহাল প্রতিবেদনে গুলির চিহ্ন উল্লেখ না করে ‘কালো দাগ’ হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাকে বলেন, “উপরের নির্দেশ আছে, গুলির কথা লেখা যাবে না।”
পরিস্থিতির চাপে শেষ পর্যন্ত সেই প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন বলেও দাবি করেন তিনি।
ময়নাল হোসেন আদালতকে জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশ সদস্যরা তায়িম ও তার বন্ধুদের ধাওয়া করে একটি দোকান থেকে বের করে মারধর করে।
পরে দৌড়ে পালানোর সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে কাছ থেকে আরও গুলি করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, আহত অবস্থায় তায়িমকে দ্রুত চিকিৎসা না দিয়ে দীর্ঘ সময় ফেলে রাখা হয়।
পরে একটি ভ্যানে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও ততক্ষণে সব শেষ হয়ে যায়।
পরদিন ময়নাতদন্ত সম্পন্নের পর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঢাকায় প্রথম জানাজা শেষে কুমিল্লার গ্রামের বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
এই ঘটনায় দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়ে ময়নাল হোসেন বলেন, “আমি নিজেও পুলিশ সদস্য।
কিন্তু আমার ছেলের সাথে যা হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি ন্যায়বিচার চাই।”
ট্রাইব্যুনালে এই জবানবন্দিকে মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ পরে নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে।






