জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ দেওয়ার উদ্যাগ নেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

পাঁচ জেলায় শুরু, খাল খনন থেকে শিক্ষা-প্রযুক্তিতে বহুমুখী উদ্যোগ।
টুইট ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে পাঁচ জেলায় এর কার্যক্রম চালু করা হবে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস–এর লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী জেলায় ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম শুরু করা হবে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য ও আধুনিকায়নের পথে এগিয়ে যাবে।
তিনি আরও জানান, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ১৬ মার্চ থেকে খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জুন ২০২৬ পর্যন্ত পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও কৃষি মন্ত্রণালয় মিলে ১২০৪ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করবে। পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় আরও ১৫০০ কিলোমিটার খাল সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিবেশ খাতে উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১ কোটি ৫০ লাখ চারা উৎপাদন করা হয়েছে, যা আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রোপণ করা হবে। এ কাজে স্থানীয় সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে।
শিক্ষা খাতে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি ‘এক শিক্ষক এক ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২৩৩৬টি কারিগরি ও ৮২৩২টি মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় উন্মুক্ত খেলার মাঠ গড়ে তুলতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একটি কমিটি কাজ করছে।
প্রযুক্তিখাতে উন্নয়নের লক্ষ্যে হাই-টেক ও সফটওয়্যার পার্কসমূহ কার্যকরভাবে পরিচালনা এবং দেশে আন্তর্জাতিক অনলাইন লেনদেন সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ক্রীড়া খাতে ভাতা চালু, শিক্ষার্থীদের ঋণ সুবিধা বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন এবং সরকারি চাকরিতে নিয়োগ কার্যক্রম জোরদারের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ দেশের সার্বিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে।






