নোবেলের আঁতুড়ঘরে এক ঝলক

বিশ্বকাপ কাভার করতে গিয়ে বোস্টনে এমআইটি ঘুরে জ্ঞান-বিজ্ঞান আর উদ্ভাবনের অনন্য পরিবেশের অভিজ্ঞতা
টুইট প্রতিবেদক: বিশ্বকাপ ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনাল কাভার করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ও গবেষণার প্রাণকেন্দ্র বোস্টনে কিছু সময় কাটানোর সুযোগ মিলেছে। সেই সফরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ম্যাসাচুসেটস প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান (এমআইটি) পরিদর্শন।
বিশ্বজুড়ে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের পেছনে যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের অবদান সবচেয়ে বেশি, এমআইটি তাদের অন্যতম। নোবেলজয়ী, বিশ্বমানের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও উদ্যোক্তা তৈরির ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটি আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক অনন্য মর্যাদা অর্জন করেছে।
ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনের দায়িত্ব শেষ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমানে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্টডক্টরাল গবেষক সোলায়মান নাঈমকে সঙ্গে নিয়ে এমআইটি ক্যাম্পাসে পৌঁছানো হয়। বোস্টনের উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এমআইটির নামে একটি মেট্রো স্টেশনও রয়েছে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও বিভিন্ন অর্জনের তথ্য সযত্নে তুলে ধরা হয়েছে।
ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে সুপরিকল্পিত একাডেমিক ভবন, বিস্তৃত সবুজ প্রান্তর এবং গবেষণাকেন্দ্রিক পরিবেশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় বিশাল খোলা মাঠে, যা দর্শনার্থীদেরও অন্যতম আকর্ষণ। সেখানে ঘুরতে আসা ব্রাজিলের এক দম্পতি জানান, বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখার পাশাপাশি এমআইটি পরিদর্শনও ছিল তাদের বোস্টন সফরের প্রধান উদ্দেশ্য।
প্রকৌশল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় এমআইটি দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এখানকার অসংখ্য সাবেক শিক্ষার্থী নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। শুধু বিজ্ঞান নয়, ব্যবসা, উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক নেতৃত্ব তৈরিতেও প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা অনস্বীকার্য। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানসহ বিশ্বের বহু খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বের সঙ্গে এমআইটির নাম জড়িয়ে আছে। তাই একে নোবেলজয়ীদের আঁতুড়ঘর বললে অত্যুক্তি হয় না।
বিশ্বের মেধাবী শিক্ষার্থীদের কাছে এমআইটিতে পড়াশোনা একটি স্বপ্ন। তবে সেই স্বপ্ন পূরণ সহজ নয়। কঠোর প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি প্রক্রিয়ায় শুধু ভালো ফলাফল নয়, নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং বাস্তবমুখী চিন্তারও মূল্যায়ন করা হয়।
ক্যাম্পাসে কথা হয় ব্রাজিলীয় শিক্ষার্থী আদ্রিয়ানের সঙ্গে। তাঁর ভাষায়, এমআইটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে মানবকল্যাণে কাজে লাগানোর শিক্ষা। এখানকার শিক্ষা ও গবেষণার প্রতিটি ধাপ বাস্তব সমস্যার সমাধানকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে।
সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে এমআইটির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া চার্লস নদীর তীরে প্রাণচাঞ্চল্য আরও বেড়ে যায়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেইলিং ক্লাব শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমের আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সময়ের সীমাবদ্ধতায় একই শহরে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখা সম্ভব হয়নি। তবু এমআইটিতে কাটানো অল্প সময়ই বোস্টনকে জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের এক অনন্য নগরী হিসেবে নতুন করে চিনিয়ে দিয়েছে।






