হুঁশিয়ারির পরও থামেনি মাটি বাণিজ্য

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় রাতভর অবৈধ পুকুর খনন; প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের।

টুইট প্রতিবেদক: নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় অবৈধ পুকুর খনন ও মাটি বিক্রির দৌরাত্ম্য প্রতিমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারির পরও থামেনি।

বরং স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক নজরদারির দুর্বলতার সুযোগে রাতের অন্ধকারে আরও সংগঠিতভাবে চলছে এই অবৈধ কার্যক্রম।

সম্প্রতি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল মাদক, দুর্নীতি ও অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেন।

তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা সেই ঘোষণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

উপজেলার কাঁকফো বসুপাড়া এলাকায় এখনও অব্যাহত রয়েছে অবৈধ পুকুর খনন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে ৮ থেকে ১০টি ট্রাক্টর ও বড় ট্রলির মাধ্যমে মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, এ কাজে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব খাটাচ্ছেন স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী।

তমালতলা এলাকার এক মাটি ক্রেতা জানান, তিনি স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে প্রতি গাড়ি মাটি ১২০০ টাকায় কিনেছেন।

তবে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান বা সরাসরি কোনো মন্তব্য দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, নাম জড়ানো কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নাম জড়ানো হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানিয়েছেন, অবৈধ পুকুর খনন ও মাটি বিক্রির বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান রয়েছে।

কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, রাত গভীর হলেই ট্রলির শব্দে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়, অথচ প্রশাসনের কার্যকর উপস্থিতি দেখা যায় না।

অভিযোগ জানালেও অনেক সময় তা আমলে নেওয়া হয় না।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রভাবশালী চক্রের সম্পৃক্ততা এবং মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকির অভাবই এই অবৈধ বাণিজ্য বন্ধে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে কৃষিজমি ও পরিবেশের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এ পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রশাসনের তৎপরতা দৃশ্যমানভাবে বাড়াতে হবে।