ইসরাইল চুক্তি স্থগিত করল ইতালি

লেবানন উত্তেজনা, গাজা নীতি ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনে রোমের কঠোর বার্তা।
টুইট ডেস্ক: ইসরাইলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইতালি।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি জানিয়েছেন, প্রতি পাঁচ বছর পর নবায়নযোগ্য এই চুক্তি বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে স্থগিত রাখা হয়েছে।
যদিও মেলোনি সরাসরি নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেননি, তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে ইতালি ও ইসরাইলের সম্পর্ক স্পষ্টতই অবনতির দিকে গেছে।
বিশেষ করে লেবাননে জাতিসংঘ মিশনে নিয়োজিত ইতালীয় শান্তিরক্ষীদের বহরে ইসরাইলি বাহিনীর সতর্কতামূলক গুলির ঘটনায় রোম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায়।
ঘটনাটির পর ইতালিতে নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়।পাল্টা প্রতিক্রিয়ায়, ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানিয়ের সমালোচনামূলক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতালির রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ইসরাইল।
তাজানি লেবাননে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে সতর্ক করেন, “গাজার মতো আরেকটি সংকট যেকোনো মূল্যে এড়াতে হবে।”
ইতোমধ্যে ইউরোপের একাধিক দেশ ইসরাইলের প্রতি অস্ত্র রপ্তানি সীমিত বা স্থগিত করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে ইতালির বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল, যা সরকারের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
অন্যদিকে, গাজা ইস্যুতে ইসরাইলের নীতির বিরোধিতা এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি না দেওয়ার প্রতিবাদে ইতালির বিভিন্ন শহরে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা গেছে।
এতে করে অভ্যন্তরীণ চাপও বেড়েছে মেলোনি সরকারের ওপর।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলে অস্ত্র রপ্তানিতে ইতালি তৃতীয় বৃহত্তম দেশ হলেও ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইসরাইলের মোট অস্ত্র আমদানির মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ এসেছে ইতালি থেকে।
এ ক্ষেত্রে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি।
সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লেবানন ইস্যু, গাজা নীতি এবং ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক উত্তেজনার সমন্বয়ে ইতালির এই সিদ্ধান্ত ইউরোপ-ইসরাইল সম্পর্কের নতুন বার্তা বহন করছে।






