ডিম-মাছেও অনীহা জয়ার

প্রাণী অধিকার সচেতনতা থেকে খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন, মানসিক দ্বন্দ্বের কথাও স্বীকার।

টুইট প্রতিবেদক: জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান তার ব্যতিক্রমী জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বরাবরই আলোচনায় থাকেন।

তবে এবার তিনি নিজেই জানালেন, সাম্প্রতিক সময়ে ডিম ও মাছ খেতেও অস্বস্তি বোধ করছেন,কারণ হিসেবে সামনে এসেছে প্রাণী হত্যার অনুভূতি।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জয়া আহসান বলেন, গত কয়েক বছর ধরে তিনি নিজেকে প্যাস্কিটেরিয়ান হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।

খাওয়ার প্রতি তার ভালোবাসা অটুট থাকলেও, খাদ্য নির্বাচনে এখন যুক্ত হয়েছে গভীর মানসিক ও নৈতিক বিবেচনা।

তার ভাষায়, “ইদানিং ডিমও খেতে পারছি না, মাছও খেতে পারছি না,মনে হয় আমি প্রাণী হত্যা করছি।”

এই পরিবর্তনের পেছনে কাজ করছে প্রাণী অধিকার নিয়ে তার সম্পৃক্ততা। জয়া জানান, অ্যানিমেল রাইটস নিয়ে কাজ করতে গিয়েই তার ভেতরে এই সংবেদনশীলতা তৈরি হয়েছে।

এমনকি মুরগির মাংস খাওয়ার সময়ও তার মনে হয়, তিনি যেন পথের প্রাণীদের খাবার কেড়ে নিচ্ছেন।

তবে এই অবস্থানকে তিনি নিখুঁত বা সবার জন্য অনুসরণযোগ্য বলছেন না।

বরং পুষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশেষ করে নারীদের জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

শুটিং সেটের প্রসঙ্গ টেনে জয়া জানান, তার পছন্দের খাবারের তালিকাও বেশ ভিন্নধর্মী।

শিঙাড়া, কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজ না থাকলে তার মেজাজ খারাপ হয়ে যায় বলেও মজা করে উল্লেখ করেন তিনি।

পাশাপাশি প্রতিদিন সকালে মায়ের হাতে তৈরি এক কাপ দুধ-চা তার দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ।

শৈশব থেকেই সবজি ও কাঁচা খাবারের প্রতি ঝোঁক রয়েছে জয়ার। অনেকেই তাকে ‘কাঁচা খাবারপ্রেমী’ বললেও, তিনি জানান,সবকিছু নয়, তবে অনেক কিছুই কাঁচা খেতে পারেন।

সব মিলিয়ে, জয়া আহসানের এই পরিবর্তন শুধু খাদ্যাভ্যাস নয়, বরং ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ও মানসিক অবস্থার প্রতিফলন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।