প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত

নতুন সরকারের যাত্রা শুরু মন্ত্রিসভার বৈঠকে, আনুষ্ঠানিক যাত্রা
টুইট প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর গঠিত নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সচিবালয়ে কার্যক্রম শুরু করেন। বৈঠক শেষে বিকেল ৪টায় সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।
এর আগে দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং সেখানে একটি পারিজাত গাছের চারা রোপণ করেন। পরিদর্শন বইয়ে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণের পরের দিনই এই প্রথম বৈঠকে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে সচিবালয়ে পৌঁছান। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা নিজ নিজ দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রাথমিক মতবিনিময় শেষে বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠকে সরকারের নীতিনির্ধারণী অগ্রাধিকার, প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে বৈঠকের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
বর্তমান মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৫০ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে পূর্ণ মন্ত্রী ২৪ জন এবং প্রতিমন্ত্রী ২৫ জন। মন্ত্রিসভার ৪১ জনই নতুন মুখ এবং ১৬ জন প্রথমবারের মতো মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন। পূর্ণমন্ত্রীদের মধ্যে ৯ জন পূর্ববর্তী বিএনপি সরকারের দায়িত্বে ছিলেন। নতুন মন্ত্রিসভায় তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার সমন্বয় লক্ষ্য করা গেছে, যা সরকারের ঘোষিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ভিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে দলীয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন সরকারের প্রথম কার্যদিবস উপলক্ষে সচিবালয় এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর)সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে সচিবালয়ে উৎসাহ ও কৌতূহলের পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়।
এদিকে, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে, যা বিটিভিসহ সব টেলিভিশন চ্যানেলে সম্প্রচারিত হবে। ভাষণে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক সংস্কার, শিক্ষা ও প্রশাসনিক সংস্কার এবং পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ে দিকনির্দেশনা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে শিক্ষামন্ত্রী প্রশ্নফাঁস ও বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন পরিবেশবিরোধী প্রকল্প গ্রহণ করা হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক নতুন সরকারের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা এবং নীতিনির্ধারণী দিকনির্দেশনার ভিত্তি স্থাপন করেছে। তবে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন সরকারের কর্মকৌশল ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এখন সবার নজরে।






