১৩২ বার পেছাল সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন

তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আগামী ৯ ডিসেম্বর নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।
টুইট প্রতিবেদক: সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল আবারও পিছিয়েছে। এ নিয়ে ১৩২ বারের মতো প্রতিবেদন জমার তারিখ পরিবর্তন করা হলো। আগামী ৯ ডিসেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন। এদিন মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত থাকলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা তা জমা দিতে পারেননি। ফলে আদালত নতুন তারিখ ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম রাসেল।
মামলাটিতে বর্তমানে আটজন আসামি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রুনির বন্ধু তানভীর রহমান, বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুণ, পলাশ রুদ্র পাল ও আবু সাঈদ। একাধিকবার রিমান্ডে নেওয়া হলেও আসামিদের কেউ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। পরদিন সকালে তাঁদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রথমে থানা-পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করে। চার দিন পর তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুই মাসের বেশি সময় তদন্ত করেও রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হয় ডিবি। পরে একই বছরের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তভার র্যাবের কাছে দেওয়া হয়।
মামলার তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা কাটাতে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশের পাশাপাশি র্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (পিবিআই) প্রধানকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়।
তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সাংবাদিক দম্পতি হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় মামলাটির বিচারিক অগ্রগতি নিয়ে অপেক্ষা অব্যাহত রয়েছে।






