অশান্ত ভারতের অরুণাচল, আকাশপথে বিশাল নিরাপত্তা বাহিনী পাঠাল সরকার

চীনের সঙ্গে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে সিয়াং উপত্যকায় কড়া নিরাপত্তা; ২১ জনের বেশি গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের অরুণাচল প্রদেশে প্রস্তাবিত ১১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের সিয়াং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেওয়ায় সিয়াং উপত্যকায় বিপুলসংখ্যক কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে দেশটির সরকার। আকাশপথে র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (র‍্যাফ) একাধিক কোম্পানিসহ মোট ৩৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভি মুম্বাই থেকে ভারতীয় বিমান বাহিনীর পরিবহন বিমানে র‍্যাফের একাধিক কোম্পানি পাসিঘাট বিমানবন্দরে পৌঁছেছে। এরই মধ্যে সিয়াং ও আপার সিয়াং অঞ্চলে র‍্যাফের কয়েকটি দল দায়িত্ব পালন করছে।

আসামের ডিব্রুগড়, শিবসাগর, জোরহাট, নাগাঁও ও নলবাড়ি থেকেও কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) কোম্পানিগুলো সিয়াং উপত্যকায় পাঠানো হয়েছে। মোতায়েন করা বাহিনীর মধ্যে নারী র‍্যাফ সদস্যরাও রয়েছেন।

গত ২৩ অক্টোবর পাসিঘাটে প্রকল্পবিরোধী বিক্ষোভের সময় জাতীয় জলবিদ্যুৎ করপোরেশনের (এনএইচপিসি) কার্যালয় ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকজন বিধায়কের বাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়। এসব ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা জোরদার করে প্রশাসন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাসিঘাট, মেবো ও রুকসিন এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারায় বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে। বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২১ জনের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে, অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলাতেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী তৎপর রয়েছে।

চীনের তিব্বতে ইয়ারলুং সাংপো নদীতে বৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের প্রেক্ষাপটে ভারতের সিয়াং প্রকল্পকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভূমি, জীবিকা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় আদি আদিবাসী সম্প্রদায়ের একাংশ এর বিরোধিতা করছে। প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকার ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ এখনো অব্যাহত রয়েছে।