নাইরোবিতে বহুতল ভবন ধস, ধ্বংসস্তূপে বহু মানুষের আটকে পড়ার শঙ্কা

এক নারীকে জীবিত উদ্ধার, উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী ও রেড ক্রস; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবির ইস্টলেইঘ এলাকায় নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন ধসে পড়েছে। হুড়মুড় করে ধসে পড়ল নির্মাণাধীন ভবন, চলছে উদ্ধার অভিযান।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত একজন নারীকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে ৯ম স্ট্রিট ও ফার্স্ট অ্যাভিনিউয়ের কাছাকাছি ভবনটি ধসে পড়ে। কেনিয়া রেড ক্রসের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ভবনটির একাধিক তলা একটির ওপর আরেকটি ধসে পড়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে উদ্ধারকাজ চলছে।

পুলিশ প্রধান ইসা মোহামুদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনটির ১০টিরও বেশি ওপরের তলা নির্মাণাধীন ছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভবনটির উচ্চতা ১২ থেকে ১৮ তলা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভবনটির মোট তলার সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী ও রেড ক্রস

ধসের পর কেনিয়া ডিফেন্স ফোর্সেসের দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যাটালিয়ন, কেনিয়া রেড ক্রস এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থা যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। প্রথম দিকে ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ ব্যাহত হয়। পরে এক্সকাভেটর ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসাবশেষ অপসারণ শুরু করে।

পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা একজনের চিৎকার শোনা গিয়েছিল। পরে সেই শব্দ বন্ধ হয়ে যায়। ওই ব্যক্তির অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নাইরোবির গভর্নর জনসন সাকাজার দপ্তর জানিয়েছে, ভবনটির নিচতলায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালু ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা আবদি আজিজের ভাষ্য অনুযায়ী, বেসমেন্টেও কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নির্মাণশ্রমিক কাজ করছিলেন। তবে শুক্রবারের জুমার নামাজের কারণে ওই সময় অনেক মানুষ মসজিদে থাকায় ভবনটিতে উপস্থিত লোকজনের সংখ্যা কত ছিল, তা নিশ্চিত করা যায়নি।
জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের টিয়ার গ্যাস
উদ্ধার অভিযান চলার সময় ঘটনাস্থলে মানুষের ভিড় এবং লুটপাটের চেষ্টার খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাশের দোকানগুলোতে লুটপাটের চেষ্টা করা হয়। ধ্বংসস্তূপ থেকে ধাতব সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং উদ্ধারকারীদের চলাচলের পথ পরিষ্কার করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। এতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য ঘটনাস্থলে প্রবেশের পথ তৈরি করা হয়।

নির্মাণ অনুমোদন থাকলেও ছিল না দখলের সনদ

ভবনটির নির্মাণসংক্রান্ত অনুমোদন এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নাইরোবির গভর্নর জনসন সাকাজা জানিয়েছেন, ভবনটির নির্মাণ অনুমোদন থাকলেও সেখানে বসবাস বা ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অকুপেশন সার্টিফিকেট বা দখল-অনুমতিপত্র ছিল না।

গভর্নরের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সনদ ছাড়া নিচতলায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালু রাখা বেআইনি ছিল। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে কর্তৃপক্ষের প্রধান অগ্রাধিকার হলো মানুষের জীবন রক্ষা এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধার করা।

পুলিশ প্রধান ইসা মোহামুদ জানিয়েছেন, ভবনধসের ঘটনায় তদন্ত করা হবে। অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রকৌশলীদের কয়েকজনের বক্তব্য ও স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধসের আগে ভবনটিতে ফাটলসহ কিছু সতর্কতামূলক লক্ষণ দেখা গিয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। নির্মাণসামগ্রীর মান এবং নির্মাণকাজের তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে ভবনধসের সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্তের আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

নাইরোবিতে ভবনধস নিয়ে নতুন উদ্বেগ

নাইরোবিতে অপর্যাপ্ত তদারকি, নির্মাণবিধি লঙ্ঘন এবং ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে অতীতেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নতুন এ দুর্ঘটনা শহরের নির্মাণ খাতের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে।

তবে এ ঘটনায় ঠিক কতজন হতাহত হয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে কতজন আটকা পড়ে আছেন এবং ভবনটি কেন ধসে পড়েছে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।

উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হতাহত ব্যক্তিদের সংখ্যা ও দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।