১. ১৭ বছর পর আবার দেশে ফিরলেন দাউদ আলী

১৭ বছর পর আবার দেশে ফিরলেন দাউদ আলী ২. প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের আগে রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় ৩. জাপান সফরের আগে রাষ্ট্রদূতকে ফেরানো নিয়ে প্রশ্ন ৪. লন্ডনের পর এবার জাপান থেকে ফিরলেন দাউদ আলী ৫. দাউদ আলীকে ফেরানো নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা
টুইট ডেস্ক: ১৭ বছর আগে লন্ডন থেকে ফেরানো হয়েছিল দাউদ আলীকে, এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টোকিও সফরের আগে তাকে দেশে ডেকে পাঠানো হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের কারণ জানায়নি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের আগে টোকিওতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলীকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ১৭ বছর আগে লন্ডনে দায়িত্ব পালনকালে দেশে ফেরানো হয়েছিল তাকে। এবার জাপান সফরের ঠিক আগে রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে আনার ঘটনায় কূটনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপান সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে এ রাষ্ট্রীয় সফরে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় আসার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১৫ অক্টোবরের এক চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে আলোচনার জন্য দাউদ আলীকে ঢাকায় ডেকে পাঠানো হয়। দুই দিনের মধ্যে দেশে ফেরার নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি টোকিও থেকে ঢাকায় আসেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে রাষ্ট্রদূতকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণ অবশ্য প্রকাশ করেনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা টোকিওতে বাংলাদেশের দূতাবাস। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র একেএম শহীদুল করিম এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।
সফরের আগে রাষ্ট্রদূতকে ফেরানো নিয়ে প্রশ্ন
সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন কূটনীতিকের মতে, সরকারপ্রধানের সফরের ঠিক আগে সংশ্লিষ্ট দেশের রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফিরিয়ে আনার ঘটনা অস্বাভাবিক। তাঁদের আশঙ্কা, এ সিদ্ধান্ত জাপানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সফরের সমন্বয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদেশে বাংলাদেশের একটি মিশনের এক রাষ্ট্রদূত বলেন, জাপান সরকারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে দাউদ আলী আলোচনা করেছেন। সফরের ঠিক আগে তাকে ফিরিয়ে আনার কারণ তাঁর জানা নেই।
ওই কূটনীতিকের মতে, রাষ্ট্রদূত সংশ্লিষ্ট দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা সম্পর্কে অভিজ্ঞ থাকেন। নতুন কাউকে অল্প সময়ের মধ্যে সেই অভিজ্ঞতা অর্জন করে পুরো পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে।
তিনটি দেশে বাংলাদেশের মিশনে নেতৃত্ব দেওয়া সাবেক এক রাষ্ট্রদূতও এ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজন থাকলে আরও আগে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত। সফরের ঠিক আগে এমন পদক্ষেপ জাপানের কাছে কী বার্তা পৌঁছাবে, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন ছিল।
তবে রাষ্ট্রদূতকে ফেরানোর পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ বা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
২০০৯ সালেও লন্ডন থেকে ফিরতে হয়েছিল
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর ও চ্যান্সারি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন দাউদ আলী। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা তারেক রহমানকে সহায়তার অভিযোগে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। সে সময় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাকে পররাষ্ট্র সেবা একাডেমির উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর আবারও একজন সরকারপ্রধানের বিদেশ সফরের আগে দেশে ফিরতে হলো দাউদ আলীকে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষ হলে তিনি আবার টোকিওতে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে ফিরে যেতে পারেন।
দাউদ আলী ১৫তম বিসিএসের পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা। এর আগে তিনি রোমানিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে টোকিওতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। চলতি বছরের ৭ ডিসেম্বর তাঁর অবসর-উত্তর ছুটিতে যাওয়ার কথা রয়েছে।
আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ
আগামী ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে দুই দেশের মধ্যে আটটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে তিন থেকে চারটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে ২০ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
গুরুত্বপূর্ণ এই সফরের আগে রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফিরিয়ে আনার কারণ স্পষ্ট না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্ত সফরের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।






