ইন্দোনেশিয়ায় যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ আগুন

মেরাক বন্দরের কাছে ‘কেএমপি বাটুমান্ডি’ ফেরিতে আগুন; অন্তত ১১ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, প্রাণহানির খবর নেই।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে মেরাক বন্দরের কাছে ‘কেএমপি বাটুমান্ডি’ (KMP Batumandi) নামের একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করায় ফেরিতে থাকা ৪২০ জন যাত্রীসহ সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে বান্টেন প্রদেশের সিলেগন শহরের মেরাক বন্দরের ৬ নম্বর ডকের কাছে ফেরিটিতে আগুন লাগে। ফেরিটি ল্যাম্পুংয়ের বাকাউহেনি বন্দর থেকে মেরাকের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। দুপুর ২টা ৫২ মিনিটে যাত্রা শুরুর পর বন্দরের কাছাকাছি পৌঁছালে আগুনের সূত্রপাত হয়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ফেরির পেছনের অংশে, যেখানে ছোট যানবাহন রাখা হয়েছিল, সেখানে প্রথম আগুন দেখা যায়। কয়েকজন যাত্রী প্রথমে কালো ধোঁয়া দেখতে পাওয়ার পাশাপাশি বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। বিকেল ৪টা ২৪ মিনিটের দিকে মেরাকের ভেসেল ট্রাফিক সার্ভিস জরুরি সংকেত পায়।

ফেরিটিতে ৪২০ জন যাত্রীর পাশাপাশি প্রায় ৪০ জন ক্রু এবং ৮৯টি যানবাহন ছিল। যাত্রীদের মধ্যে ৩৯৩ জন যানবাহনে থাকা যাত্রী এবং ২৭ জন পদযাত্রী ছিলেন।

খবর পাওয়ার পর ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা বাসারনাস, বন্দর কর্তৃপক্ষ, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

উদ্ধারকারীরা যাত্রীদের অন্য জাহাজে স্থানান্তর করেন। এ কাজে প্রধানত ‘কেএমপি রয়েস-১’ (KMP Royce 1) ফেরি ব্যবহার করা হয়। বিকেল ৫টা ৫ মিনিট থেকে ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে যাত্রীদের উদ্ধার সম্পন্ন হয়। পরে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মেরাক বন্দরের ৬ নম্বর এক্সিকিউটিভ ডকে সাময়িক আশ্রয় দেওয়া হয়।

দুর্ঘটনার পর প্রায় ১১ জনকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের কয়েকজনকে মেরাকের স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ক্রাকাতাউ মেডিকা হাসপাতালে নেওয়া হয়। উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও নথিপত্র সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য একটি সহায়তা কেন্দ্রও খোলা হয়। এ ছাড়া জাকার্তা, বোগোর, দেপোক, টাঙ্গেরাং ও বেকাসি এলাকার যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে বাস পরিবহনের ব্যবস্থা করে ফেরি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এএসডিপি ইন্দোনেশিয়া ফেরি।

প্রতিষ্ঠানটির করপোরেট সেক্রেটারি উইন্ডি আন্দালে জানিয়েছেন, ফেরির সব যাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় সৃষ্ট পরিস্থিতির জন্য প্রতিষ্ঠানটি দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং বান্টেনের বন্দর কর্তৃপক্ষও প্রাণহানির খবর না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বাসারনাসের তথ্য অনুযায়ী, যাত্রীদের উদ্ধার সম্পন্ন হওয়ার পরও আগুন নেভানোর কাজ চলছিল। স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার অভিযান শেষ হয়।

আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ইঞ্জিনকক্ষ অথবা যানবাহন রাখার ডেকে বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ কিংবা বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

কেএমপি বাটুমান্ডি একটি রোল-অন/রোল-অফ (রো-রো) ফেরি, যা যাত্রী ও যানবাহন পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যে সংযোগকারী সুন্দা প্রণালীর মেরাক-বাকাউহেনি রুটটি ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম ব্যস্ত ফেরি চলাচলের পথ।

দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণ, যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং ফেরিটির নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।