ইশারায় সালামের উত্তর দেওয়া যাবে?

শুধু মাথা নেড়ে বা হাতের ইশারায় সালামের জবাব যথেষ্ট নয়; বিশেষ পরিস্থিতিতে মুখে উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি ইশারাও করতে হবে।
টুইট প্রতিবেদক: মুসলিমদের পারস্পরিক সম্ভাষণ ও সৌহার্দ্যের অন্যতম মাধ্যম সালাম। এক মুসলিমের সঙ্গে অন্য মুসলিমের সাক্ষাৎ হলে সালাম বিনিময় করা সুন্নত। এর মাধ্যমে একে অপরের জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করা হয়। তবে কেউ সালাম দিলে শুধু মাথা নেড়ে কিংবা হাতের ইশারায় তার উত্তর দেওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, কেউ সালাম দিলে তার উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যখন তোমাদের সালাম দেওয়া হয়, তখন তোমরা তার চেয়ে উত্তম সালাম দেবে অথবা তারই অনুরূপ জবাব
দেবে।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৮৬)
মুখে উত্তর দেওয়া জরুরি
ইসলামি ফিকহের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সালামের উত্তর এমনভাবে দিতে হবে, যাতে সালামদাতা তা শুনতে পান। শুধু মনে মনে উত্তর দেওয়া কিংবা মুখে কোনো শব্দ উচ্চারণ না করে ইশারা করাকে সাধারণ অবস্থায় সালামের যথাযথ জবাব হিসেবে গণ্য করা হয় না।
বিখ্যাত মুফাসসির ইমাম কুরতুবি (রহ.)-এর বক্তব্যের আলোকে আলেমরা উল্লেখ করেছেন, সালামের উত্তরদাতাকে এমনভাবে জবাব দিতে হবে, যাতে সালামদাতা তা শুনতে পান। একইভাবে ফকিহ তাহের ইবনে আবদুর রশীদ (রহ.)-এর বক্তব্যেও সালামের উত্তর শ্রবণযোগ্য করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
ইশারায় সালাম দেওয়া সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?
সাধারণ অবস্থায় শুধু আঙুল বা হাতের ইশারায় সালাম দেওয়া কিংবা সালামের উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে ইশারা করাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে হাদিসে সতর্কবাণী এসেছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নামে বর্ণিত একটি হাদিসে বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি যদি একটি আঙুলের ইশারায় সালাম করে, তবে তা ইহুদিদের রীতি।’ (আল-মুজামুল আওসাত, হাদিস: ৪৪৩৭)
তবে এ বিধান প্রয়োগের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিবেচনা করা জরুরি। বিশেষ কোনো প্রয়োজনে মৌখিকভাবে সালামের উত্তর দেওয়া সম্ভব না হলে বিষয়টি সাধারণ পরিস্থিতির মতো নয়।
বধির ব্যক্তি বা দূরে থাকা মানুষের ক্ষেত্রে করণীয়
সালামদাতা বধির হলে কিংবা এমন দূরত্বে থাকলে যে তাঁর পক্ষে মুখের কথা শোনা সম্ভব নয়, সে ক্ষেত্রে মুখে সালামের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি ইশারা করাও প্রয়োজন হতে পারে। এতে মৌখিক জবাবের পাশাপাশি ইশারার মাধ্যমে উত্তরটি বোঝানোর সুযোগ তৈরি হয়।
ফকিহ ইবনে আবেদীন (রহ.)-এর বক্তব্য অনুযায়ী, সালামদাতা বধির হলে উত্তরদাতার এমনভাবে মুখ নেড়ে জবাব দেওয়া উচিত, যাতে তিনি বধির না হলে তা শুনতে পেতেন।
সালামের উত্তর দেওয়ার সঠিক পদ্ধতি
সালামের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো, মুখে স্পষ্টভাবে জবাব দেওয়া। শুধু মাথা নেড়ে, হাত নাড়িয়ে কিংবা অন্য কোনো ইশারার মাধ্যমে সাধারণ অবস্থায় সালামের উত্তর দেওয়া যথেষ্ট নয়। তবে বধির ব্যক্তি, দূরত্ব কিংবা বিশেষ পরিস্থিতিতে মৌখিক উত্তরের পাশাপাশি ইশারা করা যেতে পারে।
সালাম ইসলামের সৌন্দর্য, পারস্পরিক ভালোবাসা ও শান্তির বার্তা বহন করে। তাই এর আদব ও বিধান মেনে চলার পাশাপাশি পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাযথভাবে সালামের উত্তর দেওয়াও প্রত্যেক মুসলিমের দায়িত্ব।






