নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে জেলেনস্কিকে দোষারোপ করছেন ট্রাম্প

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও মধ্যবর্তী নির্বাচনের চাপ, রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না নেওয়ার সমালোচনা
টুইট ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক চাপ সামাল দিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে দোষারোপ করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর পরিবর্তে জেলেনস্কির বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দেওয়ায় তাঁর কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যম ইউরোনিউজের ইউরোপবিষয়ক সম্পাদক মারিয়া তাদেওর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে রাজনৈতিক চাপ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার ডিজেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মার্কিন সিদ্ধান্ত মস্কোকে বাড়তি আয় করার সুযোগ করে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। তাদেওর মতে, এই সংকটের দ্রুত সমাধান করতে না পেরে ট্রাম্প ইউক্রেনের ওপর দায় চাপাচ্ছেন।
ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, জেলেনস্কির কর্মকাণ্ডের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক, খামারি ও বিশ্ববাসী সমস্যায় পড়ছেন। তাঁর বক্তব্যে এমন ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে যে, জেলেনস্কি শান্তির কথা বললেও বাস্তবে সে অনুযায়ী কাজ করছেন না এবং ইউক্রেনের নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন। তাদেওর মতে, রাশিয়ার হামলার মুখে থাকা একটি দেশের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এমন বক্তব্য দেওয়া তাৎপর্যপূর্ণ। একই সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি ট্রাম্পের তুলনামূলক নমনীয় অবস্থানেরও সমালোচনা করেছেন তিনি।
তবে জেলেনস্কির কূটনৈতিক কৌশল, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তারপরও রাশিয়ার দখলে থাকা ভূখণ্ড ছেড়ে দিয়ে দ্রুত শান্তিচুক্তি করার বিষয়ে জেলেনস্কির অনড় অবস্থানকে ইউক্রেনের স্বাধীনতা ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করেন তাদেও।
এদিকে, ইউক্রেনের সামরিক ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে ব্রাসেলসে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জেলেনস্কি। রুশ হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শীতের আগে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও নতুন অর্থায়ন নিশ্চিত করা কিয়েভের জন্য জরুরি হয়ে উঠেছে।
জেলেনস্কির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ইউক্রেনের প্রায় ১৫৫ বিলিয়ন ইউরো প্রয়োজন হতে পারে। এর মধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ইউরো সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। তবে ইউরোপের কয়েকটি দেশে ইউক্রেনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধ ও জনমতের চাপ বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনকে প্রয়োজনীয় সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া এবং রাশিয়াকে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করার কার্যকর কৌশল নির্ধারণ এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের অবস্থান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এবং ইউক্রেনের নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।






