হরমুজে দুই তেলবাহী সুপার ট্যাংকারে আগুন

ইরানের দাবি, নৌমাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ দুটি; প্রতিটিতে ছিল ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল।
টুইট প্রতিবেদক: হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় নৌমাইনের আঘাতে তেলবাহী দুটি বিশাল ট্যাংকারে আগুন লাগার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বাহিনীটি জানায়, ইরানের অনুমোদনহীন সামুদ্রিক এলাকা দিয়ে চলাচলের সময় জাহাজ দুটি মাইনের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইরানের দাবি, ট্যাংকার দুটি নির্ধারিত ও অনুমোদিত নৌপথ অনুসরণ না করায় এ ঘটনা ঘটেছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলো ও আরব বিশ্বের কয়েকটি দেশ এর আগে অভিযোগ করেছে, ইরানি বাহিনী সরাসরি জাহাজে হামলা চালাচ্ছে।
দ্বিতীয় ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ট্যাংকারটিতেও ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল। জাহাজটি চলাচল শনাক্তকরণব্যবস্থা ও রাডার বন্ধ রেখে অবৈধ পথে যাওয়ার চেষ্টা করছিল বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নৌমাইনের সঙ্গে ধাক্কা লাগার পর ট্যাংকারটির ইঞ্জিনকক্ষে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে জাহাজটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ, হতাহতের সংখ্যা কিংবা জাহাজ দুটির পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
এর আগে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুটি ট্যাংকারে হামলার তথ্য দিয়েছিল ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। শনিবার সকালে একটি সুপার ট্যাংকারে আগুন লাগার কথা জানানোর কয়েক ঘণ্টা পর দ্বিতীয় ট্যাংকারটিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর দেয় তারা।
হরমুজ প্রণালিতে বাড়ছে উত্তেজনা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয় তেহরান। পরবর্তী সময়ে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথটিতে নৌযান চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়ে যায়।
এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় উপসাগরীয় আরব দেশগুলো থেকে তেলবাহী কয়েকটি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল। তবে গত কয়েক দিন ধরে সেখানে জাহাজ চলাচলে আবারও বাধা সৃষ্টি করছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিতে নতুন করে ট্যাংকারে আগুন লাগার ঘটনা আন্তর্জাতিক তেল পরিবহন ও বাজারে উদ্বেগ বাড়াতে পারে। বিশেষ করে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বহনকারী জাহাজ দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।






